ঘরে থাকার কোন বিকল্প নেই

0

দেশের কোনো স্থানে করোনা সন্দেহ করা হলে সেই এলাকা ‘লকডাউন’ করে দেওয়া হচ্ছে। করোনা উপসর্গ দেখা দিলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে কাছাকাছি পরীাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়াও গতি পেয়েছে। পরীার আওতা বাড়ার পর দেশে এক প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে াড়ছে। এখন বেড়ে হয়েছে ৩২৩। ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে দেশে কভিড-১৯-এ মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭। নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন পরিচালক ৩ দিন আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি গত আট দিন রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইইডিসিআরের গত রবিবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় কভিড-১৯ রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ঢাকা মহানগরীতে প্রায় সব স্থানে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্থানে গুচ্ছ আকারে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে রাজধানীতে ৩ জন টিভি সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন। আইইডিসিআর বলছে, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে গেছে। এখন কাস্টার থেকে রোগী আসা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ ছুুটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বেড়েছে। সরকার যেকোনোভাবে মানুষকে ঘরে রাখতে চাইছে। মানুষের স্থানান্তর বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকারি নির্দেশনা মানতে কড়াকড়ি বেড়েছে। কেউ যাতে ঢাকায় ঢুকতে এবং ঢাকা থেকে বেরোতে না পারে সে বিষয়েও পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সন্ধ্যা ৬টার পর ঘর থেকে বাইরে না যাবার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, গত দু’দিন ধরে
কভিড-১৯ মহামারি ঠেকাতে পাড়া-মহল্লা-গ্রাম-গঞ্জে সক্রিয় গণসার্ভেইল্যান্স শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ব্যাপক মানুষকে সম্পৃক্ত ও সক্রিয় করে পাড়া-মহল্লা-গ্রাম-গঞ্জে গণকমিটি গঠন করে পারস্পরিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে খবর নিতে হবে। দীর্ঘ জাতীয় কোয়ারেন্টিনে তাদের কী অসুবিধা হচ্ছে, খাবারের বা বাজার করতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না, হয়ে থাকলে সমস্যা সমাধানের জন্য সক্রিয় হতে হবে। খোঁজ নিতে হবে, বাসার কারো জ্বর ও শুকনো কাশি আছে কি না? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এভাবে পাড়া-মহল্লা-গ্রাম-গঞ্জে কভিড-১৯ করোনা রোগের উৎস খুঁজে বের কেরে রোগীকে আলাদা করা, পরীা করা, চিকিৎসা করা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন করা প্রভৃতি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে সরকারের পাশাপাশি এর সঙ্গে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করেন, মানুষকে সক্রিয় করে তাদের মধ্যে যে শুভবুদ্ধি আছে, তা জাগিয়ে তুলে তাদের সংগঠিত করে মহামারিকে ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব। আমরা মনে করিম এসবের পাশাপডাশি উনুম্কুত জন চলাচল রোধ ও মানুষকে ঘরে রাখতে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যেতো না তা নিশ্চিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারকে একলা চলার বদলে সব দলকে কাজে লাগাতে হবে। সবার সম্মিলিত চেষ্টা মহামারি রুখে দেবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা।