গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : নার্গিস বেগম

বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যশোরে আলোচনা সভায়

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত চলছে, সে ব্যাপারে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। দেশ ও জনগণকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও নিষ্কণ্টক আবাসস্থল গড়ে তুলতে হবে। দেশ নিরাপদ না থাকলে, কেউ নিরাপদ থাকব না।

বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রোববার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরও বলেন, নির্বাচন এমন একটি পথ যা আমাদের সকলের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ নিশ্চিত করে। দেশে সাবলীলভাবে গণতন্ত্রের পথচলা অব্যাহত থাকলে দেশ অবশ্যই উন্নত হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথমে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। সেই চিন্তা থেকেই তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তিনি বলেন, আজ বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির তকমা লাগানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মর্যাদা, দর্শন এবং সেন্টিমেন্ট ধারণ করে। সকল মত ও পথের মানুষ একত্রে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারে, সে কারণে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণ হলো, বাংলাদেশ যাতে বিশ্বের বুকে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে এবং দেশে গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত ও নিষ্কণ্টক থাকে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিএনপির জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারত না, সিকিমের মতো অন্য একটি দেশের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতো। তিনি আরও বলেন, বিএনপি গঠনের উদ্দেশ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা এবং তাৎপর্য হলো সমাজের সকল স্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপি গঠনের মাধ্যমে দেশে সামরিক রাজনীতির পরিবর্তে বেসামরিক রাজনীতি শুরু হয়।

তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনকে অনিশ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছে। ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় কারা আসবে, জনগণ সেই সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভোট না হওয়া মানে অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থেকে যাওয়া। জনগণের মতামতবিহীন সরকার ক্ষমতায় থাকলে তারা ভয় দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে পারে।

অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু বলেন, বিএনপি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের হাতে দলের যে আমানত রয়েছে, সেটি রক্ষা করতে হবে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর আজও বিএনপিকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ষড়যন্ত্রের মূল উৎপাটন করতে হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের পরিচালনায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ইসহক, মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।