খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়ক প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, তলিয়ে যাচ্ছে নিচু এলাকা

0
টানা ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থান প্লাবিত হওয়ায় আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে খাগড়াছড়ির সাথে রাঙামাটির সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।। ছবি: সংগৃহীত

সোমবার থেকে শুরু হওয়া একটানা প্রবল বর্ষণে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কের একাধিক স্থান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে এই সড়কে সব ধরনের সরাসরি যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে দুই পার্বত্য জেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক হাঁটুপানিতে ডুবে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। জরুরি প্রয়োজনে অনেককে হেঁটে পানি ডিঙিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

আজ সকাল সাড়ে দশটায় মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি এলাকার মূল সড়কের ওপর হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি থইথই করছে। স্থানীয়রা জানান, সেচের নালার স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারেনি, যার ফলেই এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা ও সড়ক প্লাবিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বন্যার পানি ভেঙে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

একটানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার প্রধান চেঙ্গী ও মাইনী নদীসহ বিভিন্ন খাল ও পাহাড়ি ছড়ার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে জেলা সদর, মহালছড়ি ও দীঘিনালার বেশ কিছু নিচু এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ বেলা ১টা পর্যন্ত গত ১৮ ঘণ্টায় এলাকায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত আরও চললে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের ওপর ধসের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আজ দুপুর পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো বড় ধরনের পাহাড়ধসের খবর পাওয়া যায়নি। জেলা শহরের কলাবাগান, নান্সীবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপিঠ, আঠারো পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাস করছে শত শত পরিবার। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে শালবন, মোহাম্মদপুর, সবুজবাগ ও কুমিল্লা টিলা এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে। দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বন্যা উপদ্রুত এলাকার কাছাকাছি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।