কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য কী বার্তা বহন করছে?

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ বিএনপি’র নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও মুক্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্যকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নতুন করে চর্চা হতে শুরু হয়েছে । তার বক্তব্যের পর বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকারের ব্যবহৃত কৌশল, দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ন্যায্যতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে চর্চা শুরু হয় ।
কিন্তু আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য আসলে ঠিক কী অর্থ বহন করছে? নির্বাচনে আনার জন্য বিএনপি নেতাদের কারাগার থেকে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান ড. আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন, “তারা (বিএনপি) বলুক যে নির্বাচনে আসবে, সবাইকে আমরা কালকে ছেড়ে দিবো।”দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়ে ড. রাজ্জাক আরও বলেন, “এ ছাড়া আমাদের জন্য কোনো গত্যন্তর ছিল না, কোনো অলটারনেটিভ ছিল না। যেটা করেছি, আমরা চিন্তাভাবনা করে করেছি।”তার এই বক্তব্য প্রচার হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ড. আব্দুর  রাজ্জাকের এমন বিস্ফোরক বক্তব্য বিভিন্ন ভাবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন,“তার বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকৃত সত্যটা প্রকাশ পেয়েছে ”। “আওয়ামী লীগ নিজেও এটা জানে যে, বিএনপি অংশ না নিলে এই নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে বৈধতা পাবে না। যেমন বৈধতা পায়নি, আশির দশকে করা সাবেক স্বৈরশাসক এরশাদের নির্বাচন।” আর এ কারণেই বিএনপিকে “শর্ত মেনে” নির্বাচনে আনতে চেয়েছে আওয়ামী লীগ। “তারা বিএনপিকে আনতে চেয়েছে, তবে শর্ত সাপেক্ষে। শর্তটা হচ্ছে, এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা বিএনপি মানেনি”। “বিচার বিভাগ আসলে কাদের কথায় চলে, তাঁর বক্তব্যে সেটি আবারও পরিষ্কার হয়েছে”।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, “সরকার তার ক্ষমতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেভাবে ব্যবহার করছে, তাতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার করা হচ্ছে।” তিনি বলেন “জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে সরকার যে কাউকেই গ্রেফতার করতে পারে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সে ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয়েছে।” “কিন্তু যত্রতত্র ভাবে এই আইনের ব্যবহার করার অর্থ হচ্ছে দেশে আইনের শাসন একেবারে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।”,
কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যি হয়ে থাকলে সেটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে “প্রশ্নবিদ্ধ” করবে বলে মনে করছেন আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. রাশেদা রওনক খান। ( সূত্র: বিবিসি বাংলা)