জলসিঁড়ি প্রকল্পে জমি না কিনেই বালু ভরাটের অভিযোগ, রূপগঞ্জবাসীর মানববন্ধন

0
জলসিঁড়ি প্রকল্পে জমি না কিনেই বালু ভরাটের অভিযোগ, রূপগঞ্জবাসীর মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ বা ক্রয় ছাড়াই জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাট, রাস্তা নির্মাণ এবং উচ্ছেদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় আলহাজ আবু বকর সিদ্দিক, রফিকুল ইসলাম, সার্জেন্ট ইলিয়াস পারভেজ, আবদুস সালাম, আহসান উল্লাহ মাস্টার, আইনজীবী নাজমুল ইসলাম এবং প্রভাষক নুর সালাম বক্তব্য দেন।

ভুক্তভোগীরা বলেন, তাঁদের আন্দোলন কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়; বরং জলসিঁড়ি প্রকল্পের নামে কৃষিজমি ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা এবং অনিয়মের প্রতিবাদে তাঁরা আন্দোলন করছেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১০ সালে কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ১৭টি মৌজার প্রায় সাত হাজার বিঘা কৃষিজমি অধিগ্রহণ ছাড়াই দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে বালু ভরাটের মাধ্যমে তিন ফসলি কৃষিজমির একটি বড় অংশের চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় জলসিঁড়ি প্রকল্প-১-এর কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে জলসিঁড়ি প্রকল্প-২-এর জন্য কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষিজমি ও বসতভিটা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সীমানা নির্দেশক নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই নকশার ভিত্তিতে জমি ক্রয় ছাড়াই বিভিন্ন স্থানে বালু ভরাট করা হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় দুই শতাধিক বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া সহকারী পুলিশ সুপারের মাধ্যমে জমির আরএস দাগ নম্বর উল্লেখ করে প্রায় শতাধিক পৃথক অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছেও একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

এ সময় রূপগঞ্জের ইচ্ছাখালী খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, খালটি দীর্ঘদিন ধরে নৌচলাচল, কৃষিজমিতে সেচ এবং মাছ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়েছেন।

তাঁরা দ্রুত ইচ্ছাখালী খাল থেকে বালু অপসারণ, পুনঃখনন এবং নৌচলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে নয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমি ক্রয় ছাড়া বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করা, ইচ্ছাখালী খাল পুনঃখনন, প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট সীমানা ও মানচিত্র প্রকাশ, বসতবাড়ির বাইরে আবাসন প্রকল্প স্থাপন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।