কাশিমপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি থেকে বাদ পড়াদের বিক্ষোভ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের সরকারি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীরা বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল বুধবার নূরপুর ব্যাংক মোড়ে তারা বিক্ষোভ করেন। পুরনো ২শ’ জনের তালিকা থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮২ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লিয়াকত হোসেন টিপু বলেন, দুঃস্থ ,অস্বচ্ছলদের নতুন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যারা কার্ড পাওয়ার দাবিদার তাদেরকে বাদ দিয়ে স্বচ্ছল, বিত্তশালী এমনকি একই পরিবারের একাধিক ব্যাক্তিকে কার্ড দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এবং তার পছন্দের ব্যাক্তিদের এই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি করার চেষ্টা চালানো হয়। এ জন্য চেয়ারম্যান তার অনুসারীদের দিয়ে নতুন কার্ড দেওয়ার কথা বলে পুরানো কার্ডটি হাতিয়ে নেন। এরপর ২শ’ জন সুবিধভোগীর মধ্যে থেকে ৮২ জনকে আগের তালিকা থেকে বাদ দেন। ওই ৮২ টি কার্ড চেয়ারম্যান তার নিজের অনুসারীদের দিয়েছেন। নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৮২ জনের মধ্যে ওয়ার্ডের বিত্তবানদের নামও রয়েছে। এমনকী একই পরিবারের ৪ থেকে ৫ জন সদস্যের নাম রয়েছে। এমনটিই জানান বিক্ষোভকারীরা।
তালিকা থেকে বাদ পড়া ৭৫ বছর বয়সী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি নিজে কাজ করতে পারি না। আমার একটা পুত্র সন্তান আছে সেও শারীরিক প্রতিবন্ধী। চেয়ারম্যান আমার নাম টাও তালিক থেকে বাদ দিয়েছে।’ ষাটোর্ধ্ব রুলি বেগম বলেন, এক বছর আগে তার স্বামী মারা গিয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছে অনেক অনুনয় বিনয় করেও শেষ রক্ষা হয় নি। তাকেও তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। বৃদ্ধ কাওসার আলী বলেন, রিক্সা চালিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন। নতুন করে কার্ড দেবে এমন কথা বলে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা তার কার্ড হাতিয়ে নেয়। পরে জানতে পারেন তাকে ওই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন,পূর্বের চেয়ারম্যান অনিয়ম করেছিল। তিনি প্রকৃত দাবিদারদের উপেক্ষিত করে তার পছন্দের ব্যাক্তিদের দিয়েছিলেন। ‘আমি সরাকারিভাবে চিঠি পেয়ে সেটি সংশোধন করছি। যে কারণে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’