কালীগঞ্জে ভৈরব নদের অর্ধশত বিঘা আওয়ামী লীগ নেতা ও তার পরিবারের দখলে

0

কালিগঞ্জ (ঝিনাইদহ)সংবাদদাতা॥ কালীগঞ্জে ভৈরব নদ দখল হয়ে গেছে। উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শমসের ও তার দুই ভাই শফিকুল শমসের ও তরিকুল শমসের দীর্ঘদিন ধরে নদের অর্ধশত বিঘারও বেশি জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দখলদারিত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কৃষকদের নদে নামতে পর্যন্ত বাধা দেওয়া হচ্ছে। ভৈরবের পাড় ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে পাকা প্রাচীর- যাতে সাধারণ মানুষ নদে যেতে না পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘোপপাড়া ও সাদিকপুর গ্রামের ভৈরব নদের দুই পাড় জুড়ে রয়েছে শস্যক্ষেত । স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের ছায়ায় রাশেদ শমসের ও তার ভাইয়েরা বছরের পর বছর ধরে এই জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। প্রতিবাদ করলেই হুমকি, মামলা, হয়রানি করা হতো।

স্থানীয় কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নদের দুই পাড় পুরো দখলে রয়েছে। আমরা নদে নামতেই পারি না। ব্রিজের পাশে দেওয়াল তুলে দিয়েছে যেন কৃষকরা একফোঁটা পানিও কেউ না পায়। এটা কি স্বাধীন দেশে সম্ভব?

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম সর্দার বলেন,তারা শেখ মুজিবের মুর‌্যাল বানিয়ে, কলেজের নাম ব্যবহার করে নদী ও সরকারি জমি দখল করে নিচ্ছে। কলেজ সরকারি করার পেছনেও ছিল রাজনৈতিক প্রভাব। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এখন আবার নতুন করে দখল শুরু করেছে শফিকুল শমসের। এমনকি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জমিও রেহাই পাচ্ছে না এই চক্রের হাত থেকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন,আমার কেনা জমির নিচে নদের জায়গা ছিল। সেটি দখল করে তাতে ছাতা স্থাপন করেছেন শফিকুল। এখন তিনি আমার জমিতেও প্রাচীর তুলছেন। আমি আদালতে গিয়েছি, ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। তবু কাজ থামেনি।

অভিযোগের বিষয়ে রাশেদ শমসেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও শফিকুল শমসের ছাতা নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন,এটা স্থায়ী কিছু না। চাইলে ভেঙে দেবো। নজরুল ইসলামের জমি দখলের অভিযোগ তিনি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কুমার দাস বলেন,নদের জায়গা দখল করে চাষাবাদ করার কোন সুযোগ নেই। আমরা দ্রুতই লোক পাঠিয়ে তালিকা করব। যদি দখল হয় তা উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেব।