কাগজ সংকটে ইবিতে ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলন বন্ধ: ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থীরা

0
৫ মাস ফাইলবন্দি প্রস্তাব: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রিন্টিং পেপারের অভাবে সনদ উত্তোলন স্থগিত ।। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রিন্টের কাগজ সংকটে ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলন করতে পারছেন না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রশাসনিক ধীরগতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বর্তমানে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে যোগদান এবং উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে বিদেশ গমনেচ্ছু শত শত শিক্ষার্থী সময়মতো নথিপত্র না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্রান্সক্রিপ্ট প্রিন্টের প্রয়োজনীয় কাগজ ক্রয়ের জন্য গত বছরের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ‘নোট’ প্রদান করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। পরবর্তীতে কাগজ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ ৫ মাস অতিবাহিত হওয়ায় কাগজ ক্রয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে বিলম্ব হয়। কাগজ ফুরিয়ে আসার আশঙ্কায় চলতি বছরের শুরু থেকে প্রিন্ট সীমিত করা হলেও গত কয়েকদিন ধরে জরুরি প্রয়োজনে দেওয়ার মতো ন্যূনতম কাগজও ফুরিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা একে প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম সীমান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে সামান্য প্রিন্টিং পেপারের অভাবে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা লজ্জাজনক। রেজাল্ট প্রস্তুত থাকার পরও কাগজ নেই—এমন অজুহাতে আমাদের দিনভর দপ্তরে দপ্তরে ঘোরানো হচ্ছে।” আরেক শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি রিমন বলেন, “সনদ ও নম্বরপত্র উত্তোলন এখন আতঙ্কের নাম। প্রশাসনের অদূরদর্শিতার কারণে আমাদের জীবনের মূল্যবান সময় ও চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে।”

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, “কাগজ শেষ হওয়ার শঙ্কায় ৫ মাস আগেই আমরা নোট দিয়েছিলাম। কিন্তু অনুমোদন না পাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। আশা করি আগামী সপ্তাহে প্রয়োজনীয় কাগজ পাবো।” বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ কাগজ ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই প্রয়োজনীয় সকল কাগজ সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”