এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ: ফেল থেকে পাশ ৪৫৮৫, নতুন জিপিএ-৫ ৩০৭৯ জন

0
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ হয়েছে। রেকর্ড আবেদনের পর এবার ফেল থেকে নতুন করে পাশ করেছেন ৪,৫৮৫ জন শিক্ষার্থী এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩,০৭৯ জন।। গ্রাফিক্স: লোকসমাজ

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে ফেল থেকে নতুন করে পাশ করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে নতুন করে সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৩ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী। এছাড়া ফলাফলে বিভিন্ন বিষয়ে নম্বর ও গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে আরও অনেক শিক্ষার্থীর।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে একযোগে এই ফল প্রকাশ করা হয়। এছাড়া আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট (rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) থেকেও পরীক্ষার্থীরা সরাসরি ফল দেখতে পাচ্ছেন।

এর আগে গত ১০ আগস্ট চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল, যা প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল বের হলো। উল্লেখ্য, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম গত ১৭ আগস্ট রাতে শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর চূড়ান্ত এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক পত্রের আবেদনের সুযোগ পাওয়ায় মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্রের জন্য আবেদন জমা হয়। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, এবার পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছিল। পূর্বে শুধু নম্বর গণনা ও যোগের ভুল যাচাই করা হলেও, এবারই প্রথমবারের মতো আবেদনকৃত উত্তরপত্র সম্পূর্ণ নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

বোর্ডভিত্তিক আবেদনের তথ্যে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, যেখানে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। এছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী আবেদন জানান। অন্যদিক, মাদরাসা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা বিগত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল ফলাফলে অসন্তুষ্ট বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন জানানোর পর দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত এই ফলে নতুন করে স্বপ্ন পূরণের স্বস্তি পেলেন হাজারো শিক্ষার্থী।