ইবি শিক্ষিকা হত্যায় ৪ জন অভিযুক্ত, ছাত্রদের বিক্ষোভ

0
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে নৃশংসভাবে হত্যা। অভিযুক্ত কর্মচারীও নিজের গলায় ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ।। ছবি: সংগৃহীত

ইবি সংবাদদাতা ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এজহার দায়ের করবেন তার স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান।

বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে এজহার দায়ের করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, অন্য আসামিরা হলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়ার ময়নাতদন্ত করা হয়। ১০টার দিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. হোসেন ইমাম ও মেডিকেল অফিসার রুমন রহমান জানান, ওই শিক্ষিকার গলায় ছুরি ঢুকিয়ে দেওয়াসহ শরীরে ১৫-১৮ টা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিহতের স্বামীর বড় ভাই আবদুর রশিদ বলেন, কর্মস্থলে এমন হত্যাকান্ড অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় কিছু রাঘববোয়াল জড়িত আছে। আমরা প্রশাসনের কাছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পরে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে তার সাথে ওই শিক্ষকের বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। এ ঘটনার ক্ষোভের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে ধারণা করছেন পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস ম্যামের সাথে অসদাচরণ করতেন। শিক্ষকদের কোনো কথাই শুনতেন না তিনি। শিক্ষার্থীরা কিছু বললে তেড়ে আসতেন। এছাড়া তিনি কম্পিউটারে লেখালেখি করতে গেলে প্রচুর বানান ভুল করতেন। তাই বিভাগের উন্নতির স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগ থেকে তাকে অন্যত্র বদলি করে।

অন্যদিকে এ হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হন তারা।

গত ৪ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করেন কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে নিজেও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান চিকিৎসাধীন রয়েছেন।