‘আমার বোনের মতো আর কাউকে যেন গুলি করে হত্যা করা না হয়’

0
বিজিবির পোশাকে আরফান হোসেন; যার বোন ফেলানী ২০১১ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর সেই নিথর দেহ আজও বাংলাদেশের মানুষের মনে গভীর এক ক্ষত। সেই ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন এবার দেশের সীমান্ত রক্ষার মহান দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বিজিবির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন ফেলানী। সেই ঘটনার প্রায় দেড় দশক পর আরফানের এই যোগদান যেন এক ঐতিহাসিক ও আবেগী মেলবন্ধন। শপথ গ্রহণ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আরফান হোসেন বলেন, “যেভাবে আমার বোনকে সীমান্তে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই স্মৃতি আজও আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। আমার পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল আমি বিজিবিতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করব।”

বিজিবির নতুন এই সীমান্তরক্ষী আরও বলেন, “আমি চাই না আমার বোনের মতো আর কোনো বোনকে সীমান্তে গুলিতে প্রাণ দিতে হোক। কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। নিজের জীবন বিপন্ন হলেও আমি সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাব।” উল্লেখ্য, ফেলানী হত্যাকাণ্ড সীমান্তে বেসামরিক হত্যার একটি প্রতীকী ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যার স্মরণে সম্প্রতি ঢাকার একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে ‘ফেলানী এভিনিউ’।