আজ সাংবাদিক সৈয়দ নজমুল হোসেনের দশম মৃত্যুবার্ষিকী

0

স্বাধীন যশোরের প্রথম দৈনিক স্ফুলিঙ্গের যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের রানার পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রবীণ সংবাদপত্র ব্যক্তিত্ব সৈয়দ নজমুল হোসেনের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৯ নভেম্বর। ২০১৩ সালের এই দিনে বেলা ১টার দিকে তিনি নিজ বাসায় ৭২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি বাসায় একাই ছিলেন। এর আগের দিন তার ছোট ভাই খুলনার তেরখাদা ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ নকী হোসেন মৃত্যুবরণ করায় তার দাফন কাজে অংশ নিতে সৈয়দ নজমুল হোসেনের স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ সদরের কালা লক্ষীপুরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের খবরে ৫ নং উপশহর পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী আজগার হোসেন ও প্যানেল চেয়ারম্যান এহসানউল্লাহ স্থানীয় চিকিৎসক ডা. শওকত আলীকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে ছুটে যান। অবস্থা খারাপ বুঝে তারা দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্যে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে তার এ মৃত্যু পরিবারটির জন্যে অপরিমেয় শোকের হয়ে রয়েছে।
তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় সকলের কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
সৈয়দ নজমুল হোসেন ১৯৪১ সালের ২৭ মার্চ তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার কালা লক্ষ্মীপুর গ্রামের বনেদী সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয় ভাই- বোনের মধ্যে চতুর্থ এবং ভাইদের মধ্যে তৃতীয়। তার পারিবারিক নাম ছিল তোতা। মাত্র এক বছরের কিছু সময় বেশি বয়সে তিনি মা জোবাইদা খাতুন ও ৪ বছর বয়সে পিতা সৈয়দ শমশের আলীকে হারান। এ সময় বড় বোন তাকে নিয়ে যান নিজ শ্বশুরালয় মাগুরার শালিখা উপজেলার পাঁচকাহুনিয়া গ্রামে। সেখানে বড় বোনের আদরে আর বড় দুলাভাই কাজী আবুল হোসেনের শাসনের স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে শুরু হয় তার শিক্ষা জীবন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ভর্তি হন নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই পাস করেন মেট্রিকুলেশন এবং ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে পাস করেন ইন্টারমিডিয়েট। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেন গ্রাজুয়েশন।
শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবন শুরু করেন তিতাস সার কারখানায়। পরে ওই চাকরি ছেড়ে যোগ দেন সরকারি মুদ্রণালয় অর্থাৎ বর্তমান বিজি প্রেসে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি গ্রামে ফিরে এসে স্থানীয় যুবকদের যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্যে সংগঠিত করেন। দেশ স্বাধীন হলে আবারো ফিরে যান ঢাকায়। সেখানে নিজে ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু ৭৫-এর পট পরিবর্তনের পর শুরু করেন নতুন পথচলা। এ পথচলায় তার পথপ্রদর্শক ছিলেন রণাঙ্গণের সাথী বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ সালাম। তিনি তার প্রকাশিত সাপ্তাহিক মাতৃভূমি পত্রিকায় কাজ দেন সৈয়দ নজমুল হোসেনকে। সেই থেকে তিনি দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় যশোর থেকে প্রকাশিত নতুন দেশ এবং যশোরের প্রথম দৈনিক ‘দৈনিক স্ফুলিঙ্গ,’ দৈনিক ঠিকানা, দৈনিক কল্যাণ, বর্তমান দৈনিক, দৈনিক ভোরের রানারের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সর্বশেষ দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সৈয়দ নজমুল হোসেনের একমাত্র ছেলে সৈয়দ আবুল কালাম শামছুদ্দীন জ্যোতির সম্পাদনা ও প্রকাশনায় যশোর থেকে চলতি মাস থেকেই নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে দৈনিক বাংলার ভোর। যার স্বপ্নদ্রষ্টাও ছিলেন মরহুম সৈয়দ নজমুল হোসেন। বিজ্ঞপ্তি।