আজ রাতেই আকাশে বিরল ‘ব্লু মুন’, দেখা মিলবে ‘মাইক্রোমুন’র

বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাবে

0

লোকসমাজ ডেস্ক :
আজ রাতের আকাশে দেখা মিলতে যাচ্ছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আকাশপ্রেমী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নজর এখন তথাকথিত “ব্লু মুন”-এর দিকে। বিশেষত্ব হলো, এবারের ব্লু মুন একই সঙ্গে “মাইক্রোমুন” হিসেবেও দেখা দেবে, যা ঘটনাটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এটিই একমাত্র ব্লু মুন। সাধারণত প্রতি দুই থেকে তিন বছর পর এমন ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ ক্যালেন্ডার ব্লু মুন দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালের আগস্টে। পরবর্তী ব্লু মুন দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

ব্লু মুন আসলে কী?

অনেকেই মনে করেন ব্লু মুন মানে নীল রঙের চাঁদ। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। একই ক্যালেন্ডার মাসে দ্বিতীয়বার পূর্ণিমা দেখা দিলে তাকে “ব্লু মুন” বলা হয়। মে মাসের প্রথম পূর্ণিমা হয়েছিল ১ মে। আর দ্বিতীয় পূর্ণিমা ঘটছে ৩১ মে। এ কারণেই এটিকে ব্লু মুন বলা হচ্ছে।

কেন একে মাইক্রোমুন বলা হচ্ছে?

এবারের পূর্ণিমা পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথের সবচেয়ে দূরের অবস্থানের (Apogee) খুব কাছাকাছি সময়ে ঘটছে। ফলে চাঁদ স্বাভাবিক পূর্ণিমার তুলনায় কিছুটা ছোট এবং কম উজ্জ্বল দেখাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ ধরনের পূর্ণিমাকে “মাইক্রোমুন” নামে অভিহিত করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের চাঁদ গড় পূর্ণিমার তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ ছোট এবং প্রায় ১০ শতাংশ কম উজ্জ্বল দেখাতে পারে। যদিও খালি চোখে এই পার্থক্য সহজে বোঝা কঠিন।

বিশ্বের গণমাধ্যমে কেন এত আলোচনা?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, নিউইয়র্ক পোস্ট, আর্থস্কাই, টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম এ ঘটনাকে ২০২৬ সালের অন্যতম উল্লেখযোগ্য আকাশীয় ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছে।
আর্থ স্কাই জানিয়েছে, এটি ২০২৬ সালের সবচেয়ে ছোট পূর্ণিমাগুলোর একটি। অন্যদিকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বলছে, ব্লু মুন ও মাইক্রোমুন একসঙ্গে ঘটার ঘটনাটি তুলনামূলকভাবে বিরল।
বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাবে
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশ থেকেও আজ রাতেই এ বিরল পূর্ণিমা দেখা যাবে। সূর্যাস্তের পর পূর্ব আকাশে চাঁদ উদিত হওয়ার সময় সবচেয়ে ভালোভাবে এটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে দিগন্তের কাছাকাছি অবস্থানে চাঁদ কিছুটা কমলা বা লালচে আভাযুক্ত দেখাতে পারে, যা মূলত বায়ুমণ্ডলীয় আলোক বিচ্ছুরণের কারণে ঘটে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ দৃশ্য উপভোগ করতে কোনো টেলিস্কোপের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই চাঁদ দেখা যাবে। তবে দূরবীন ব্যবহার করলে চাঁদের গর্ত ও পৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশ আরও পরিষ্কারভাবে দেখা সম্ভব।
‘Once in a Blue Moon’ প্রবাদটির উৎস
ইংরেজি ভাষায় বহুল ব্যবহৃত “Once in a Blue Moon” প্রবাদটি খুবই বিরল কোনো ঘটনার ইঙ্গিত দিতে ব্যবহৃত হয়। ব্লু মুনের বিরলতার কারণেই এই প্রবাদটির জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে।