আওয়ামী লীগ নেতাদের ট্রাইব্যুনালের বিচার না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার

0
সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, বিচারে যদি দেখা যায় দলটিকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, তাহলে তাঁরা পুনরায় তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন। তবে পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ার বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য ও অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদও উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীর মিছিল ও রাজনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপদেষ্টা তাঁদের রাষ্ট্রের বিদ্যমান আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তাঁদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আছে। তাঁরা একটু অপেক্ষা করুন। বিষয়টি আদালতে যাবে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকেও জানানো হয়েছে যে তদন্ত চলছে; সুতরাং সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিচারে যদি দেখা যায়, তাঁদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না—আমি আবারও বলছি, এটা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার, তিনি সব পক্ষকে শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন—তাহলে তাঁরা তাঁদের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে ককটেল হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান উপদেষ্টা। তবে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের দেওয়া কিছু বক্তব্য ও অভিযোগকে তিনি ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ বলে মনে করেন বলে মন্তব্য করেন।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি-বিষয়ক ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি প্রাথমিক পথরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ইসি পৃথক রোডম্যাপ তৈরি করেছে, যা চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার প্রস্তুতি চলছে এবং নির্বাচন শুরু হওয়ার পর ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন হবে।