অভয়নগরে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা

0

নজরুল ইসলাম মল্লিক, অভয়নগর(যশোর)॥ যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবনে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে চিকিৎসাসেবা। ছাদের বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে এসেছে। ফাটল দেখা দিয়েছে ভবনের বিভিন্ন অংশে। জরাজীর্ণ এই ভবনে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রোগী-ডাক্তার-নার্সসহ আগতরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতল ভবনটি ১৯৭০ সালে নির্মাণ করা হয়। এর প্রায় ৮ বছর পর ৩১ শয্যায় শুরু হয় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। পরবর্তীতে যা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রতিদিন অভয়নগর উপজেলাসহ পাশের ফুলতলা, মনিরামপুর, বসুন্দিয়া ও নড়াইলসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর রোগী বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। পঞ্চাশ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বেড সংকুলান না হওয়ায় ওয়ার্ড ও বারান্দার মেঝেতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। বর্তমানে পুরো ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সময় পলেস্তারা খসে পড়ে রোগী ও সেবিকাদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর। কিন্তু বিকল্প ভবন না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে এ ভবনে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম।
চিকিৎসা নিতে আসা বাগদা গ্রামের কুলসুম বলেন,আমার মেয়ে অসুস্থ হওয়ার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করি। মাথার ওপর পলেস্তরা খসে পড়ে খোয়া দেখা দিয়েছে। ভয়ে আছি যেকোন মুহূর্তে গায়ে পড়তে পারে।
হাসপাতালের সেবিকা ফরিদা জানান,জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান,বিভিন্ন সময় ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ে সেবাদানকারী ও রোগীদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।আমি হাসপাতালের দায়িত্ব নেওয়ার পর লিখিতভাবে চাহিদাপত্র দিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
জেলা স্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।