অধরা বোতলজাত সয়াবিন, দাম বৃদ্ধির দৌঁড়ে আলু পেঁয়াজ বেগুন শসা ও লেবু

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির কারণে প্রথম রোজাতেও বাজারে মেলেনি বোতলজাত সয়াবিন তেল। দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন শসা ও লেবু। সপ্তাহের ব্যবধানে সরু চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ টাকা। বেড়েছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। এখনও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি গরু ও খাসির মাংস। সব ধরনের ডাল ও ছোলার দাম গত দু মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। কমেছে খেজুরের দাম। রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়।

দেশে বোতলজাত সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রেখেছে কর্পোরেট সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের কাছ থেকে আরও এক দফা দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোক্তাদের জিম্মি করে রেখেছে কোম্পানিগুলো। শুধু ভোক্তা নয় কোম্পানিগুলো জিম্মি করে তাদের অপ্রচলিত অন্যান্য প্রোডাক্ট কেনার বিনিময়ে খুচরা দোকানিদের কাছে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করছে।

খুচরা দোকানিরা জানান, তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তারা কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক মুদি দোকানি বলেন তাকে ৫ লিটারের এক কার্টন (চার বোতল) সয়াবিন তেল নিতে কোম্পানির অপ্রচলিত সরিষার তেলের ৫ লিটারের চারটি বোতল কিনতে বাধ্য করা হয়েছে।

এ সময় সয়াবিন তেল কিনতে আসা ক্রেতা রবিউল আলম বলেন, সরকার কোম্পানিগুলোর গুদামে অভিযান চালাচ্ছে না। সেখানে অভিযান চালালে বেরিয়ে আসবে শ শ কার্টন বোতলজাত সয়াবিন তেলের মজুদ।

তবে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। রোববার বড় বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ১৯০ টাকা, সুপার তেল ১৭০ টাকা, পাম তেল ১৬৩ টাকা ও সরিষার তেল ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরা ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী রবি ব্যাণার্জী জানান, এ সপ্তাহে সয়াবিন তেলের কেজিতে ২ টাকা কমেছে। তিনি আশা করছেন রোজার মধ্যেই তেলের দাম আরও কমে আসবে।

এদিকে রোজার প্রথম দিন বড় বাজারে ভালো মানের বেগুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। যা গত সপ্তাহেও মিলছিল ৪০ টাকায়। দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে শসা। ৩০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা । কাগজি লেবু প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা, চায়না লেবু প্রতি পিস ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া গ্রীষ্মকালীন সবজিও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকা করে, করোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা।

রমজানের প্রথম দিন আলু ও পেঁয়াজের কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়ে বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ২৫ টাকা ও ৪৫ টাকা। বড় বাজারের আড়তদার নিতাই সাহা জানান, কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। এজন্য আলুুর সরবরাহ কমে দাম বাড়ছে। বাজারে নতুন বোনাভাতি পেঁয়াজ উঠেছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। এছাড়া মেহেরপুর থেকে আসা গাঢ় লাল রঙের মোটা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা।

রমজান মাসেও দাম কমেনি মুরগি গরু ও খাসির মাংসের। বাড়তি দামেই খামারের ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা, লেয়ার মুরগির কেজি ৩৩০ টাকা ও দেশি মুরগিতে আরও ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৭০ টাকা। বড় বাজার কাঠেরপুলে গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২শ টাকা।

বাজারে গত দু মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে সব ধরনের ডালের দাম। রোববার বড় বাজারে চিকন দানার দেশি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৩৫ টাকা, মোটা দানার আমদানি করা মসুর ডাল ১১০ টাকা, ছোলার ডাল ১২০ টাকা, মটর ডাল ১৪০ টাকা খেসারির ডাল ১১০ টাকা, বুটের ডাল ৬৫ টাকা ও ছোলা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে চিনির দাম। খোলা চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হয়েছে ১২৫ টাকা।

প্রচুর আমদানির পরও বাজারে সরু চাল বাংলামতির কেজিতে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮৬ থেকে ৮৮ টাকা। যশোর চালবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার সাহা জানান অন্যান্য সব চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি আশা করছেন রমজানে চালের বাজার স্থিতিশীল থাকবে।

এবার বড় বাজারে যথেষ্ঠ কমদামে পাওয়া যাচ্ছে খেজুর। বড় বাজার এইচ.এম.এম রোডের সোনিয়া ফল ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী ওলিয়ার রহমান জানান, তিনি জিহাদি সুক্কার খেজুর প্রতি কেজি ৩শ টাকা, দাবাস খেজুর ৪শ টাকা, কুল খেজুর ৪শ২০ টাকা, সাফারি মরিয়ম খেজুর ৫২০ টাকা, মরিয়ম খেজুর ৬শ টাকা, লাল মরিয়ম খেজুর ৬২০ টাকা, কামরাঙা মরিয়ম খেজুর ৭২০ টাকা, কালো মরিয়ম খেজুর ৮২০ টাকা, আজওয়া খেজুর ৯শ টাকা, মেডজুল খেজুর ১৩শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তিনি আরও জানান, গত বছরের থেকে এবার প্রত্যেক ধরনের খেজুরের কেজিতে ১শ থেকে দেড় শ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আর মেডজুল খেজুর গত বছর বিক্রি হয়েছেল ২১শ থেকে ২২শটাকা, এবার পাওয়া যাচ্ছে ১৩শ টাকায়।

যশোর জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিটন রোববার লোকসমাজকে জানান এবার কোনো সিন্ডিকেট নেই, সিন্ডিকেটমুক্ত খেজুর বাজার। সিন্ডিকেট করে যারা বাজারে প্রচুর দাম বাড়িয়ে অতি মুনাফা লাভ করতেন তারা এখন কারাগারে।

তাছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবার আমদানি করা ফলের বিভিন্ন কর হার প্রায় ৬৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রায় ৩৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এসব কারণে এবার রমজানে কম দামে ক্রেতারা খেজুর কিনতে পারবেন।