তরিকুল ইসলামের স্বপ্নে লোকসমাজের তিন দশক

0
তরিকুল ইসলামের স্বপ্নে লোকসমাজের তিন দশক
ছবি : এহসান প্রতীক
এস এম সোহেল

loksamaj-aniversaryএকটি সংবাদপত্র হয়ে উঠতে পারে একটি জনপদের ইতিহাস, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সুখ-দুঃখ ও সমাজের দর্পণ। দৈনিক লোকসমাজ আজ সেই পরিচয়ই বহন করে চলেছে। সংবাদপত্র কেবল কাগজে ছাপা কিছু সংবাদ নয়; এটি জাতি ও রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি। সেই দর্শন ও প্রত্যয় নিয়েই ১৯৯৬ সালের ৩০ অক্টোবর যশোরের মাটি ও মানুষের কথা বলার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করে দৈনিক লোকসমাজ।
তিন দশকের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে লোকসমাজ এখন শুধু একটি সংবাদপত্রের নাম নয়; এটি যশোর তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাংবাদিকতার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অসংখ্য সাংবাদিক, সংবাদকর্মী, লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীর শ্রম, ভালোবাসা ও সহযোগিতায় পত্রিকাটি তার পথচলা অব্যাহত রেখেছে।
নামকরণ থেকে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন
লোকসমাজের প্রথম সম্পাদক ছিলেন প্রথিতযশা সাংবাদিক ফকির শওকত। পত্রিকাটির যাত্রা শুরুর আগে নামকরণ নিয়েও চলেছিল নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। প্রাথমিকভাবে ‘লোকসমাজ’, ‘ইনসাফ’, ‘সমাজ ভাবনা’সহ বেশ কয়েকটি নাম বিবেচনায় আসে। শেষ পর্যন্ত ‘লোকসমাজ’ নামটিই সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়।
সাধারণ মানুষের সমাজ, তাদের চিন্তা-চেতনা, জীবন ও বাস্তবতাকে ধারণ করার প্রত্যয় থেকেই ‘লোকসমাজ’ নামটির জন্ম। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রাজনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও আশা-আকাঙ্ক্ষাসহ জনজীবনের বহুমাত্রিক বাস্তবতা তুলে ধরাই ছিল পত্রিকাটির মূল দর্শন। লোকসমাজ প্রতিষ্ঠার পেছনে ছিল একটি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া গভীর উপলব্ধি।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরিকুল ইসলাম মাত্র ৩৬৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। সেই পরাজয়ের পর তাঁর মনে নতুন একটি চিন্তার জন্ম নেয়। তিনি উপলব্ধি করেন, সমাজের অসংগতি, সামাজিক অনাচার, প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং মানুষের অধিকার-সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে।

তরিকুল ইসলামের স্বপ্নে লোকসমাজের তিন দশক
দৈনিক লোকসমাজ’র প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম -ফাইল ফটো

মানুষের মনের কথা, অভিব্যক্তি ও সমাজের প্রকৃত চিত্র সবার সামনে তুলে ধরতে একটি স্বাধীন সংবাদপত্রের প্রয়োজনীয়তা তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন। গণমানুষের পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরার জন্য সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই—এমন উপলব্ধি থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নেয় দৈনিক লোকসমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজয় অবশ্য তাঁর রাজনৈতিক পথচলাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে টেকনোক্র্যাট কোটায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। তবে মানুষের কথা বলার যে স্বপ্ন তাঁর মনে জন্ম নিয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় একটি সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে।
তরিকুল ইসলামের স্বপ্ন ছিল, লোকসমাজ হবে সাধারণ মানুষের কথা বলার জায়গা। দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের জীবন এবং সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরবে এই পত্রিকা।
‘একটি প্রতিশ্রুতিশীল দৈনিক’
লোকসমাজ প্রতিষ্ঠার সময় এর সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি প্রত্যয়—‘একটি প্রতিশ্রুতিশীল দৈনিক’।
তখন অনেকের ধারণা ছিল, তরিকুল ইসলাম বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা ও নীতিনির্ধারক হওয়ায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র হয়তো দলটির মুখপত্র হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু প্রকাশক তরিকুল ইসলাম সেই ধারণা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছিলেন।
তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ ছিল, লোকসমাজ কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপত্র হবে না; বরং জনগণের হৃদয়ের কথা ধারণ করে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে এগিয়ে যাবে অনন্তকাল।
সময়ের দীর্ঘ পথচলায় সেই প্রত্যয়ের প্রতিফলনই লোকসমাজের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিক্লারেশন ও প্রকাশনার পেছনের গল্প
১৯৯৬ সালে লোকসমাজের ডিক্লারেশন ও প্রকাশনার প্রক্রিয়াটি মোটেও সহজ ছিল না। সে সময় একটি দৈনিক পত্রিকার ডিক্লারেশন পাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, দাপ্তরিক প্রক্রিয়া এবং নানা ধাপ পেরিয়ে পত্রিকাটির ডিক্লারেশনের কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছিল। এ জন্য ঢাকার চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে বারবার যাতায়াত করতে হয়েছে।
এই কাজে সে সময় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেন দৈনিক ভোরের ডাক-এর সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, যশোরের বারান্দীপাড়ার জাহাঙ্গীর আহমেদ শাকিল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্বাস বিশ্বাস এবং ফকির শওকত। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় লোকসমাজের আনুষ্ঠানিক প্রকাশনার পথ সুগম হয়।
লোকসমাজের জন্মদিনটিও যেন ছিল তার সংগ্রামী পথচলার প্রতীক।
১৯৯৬ সালের ৩০ অক্টোবর প্রবল ঝড়-বৃষ্টির দিনে যশোর শহরের এইচ এম এম রোডের কাঠের পুলের সামনে বিশ্বাস টাওয়ারের দোতলায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় দৈনিক লোকসমাজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথিতযশা সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবির, সাংবাদিক নেতা ইকবাল আহমেদ, সম্পাদক বেলায়েত হোসেনসহ যশোরের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও আয়োজনটি ছিল উৎসবমুখর। যেন ঝড়-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই জন্ম নিয়েছিল একটি নতুন স্বপ্ন—মানুষের কথা বলার স্বপ্ন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কণ্ঠস্বর
লোকসমাজের লক্ষ্য ছিল শুধু যশোর শহরকেন্দ্রিক সংবাদ পরিবেশন করা নয়; যশোরসহ সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কথা তুলে ধরাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
সে সময়ে যশোর শহর থেকে দৈনিক রানার ও স্ফুলিঙ্গ প্রকাশিত ও প্রচারিত হতো। দৈনিক টেলিগ্রামও প্রকাশিত হলেও সেটি নিয়মিত দেখা যেত না। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন চিন্তা ও প্রত্যয় নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে লোকসমাজ।
প্রথম থেকেই পত্রিকাটির লক্ষ্য ছিল প্রান্তিক মানুষের জীবন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সুখ-দুঃখ এবং সমাজের নানা শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের বাস্তবতা তুলে ধরা। মুসলমান, বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম, জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষের জীবন যেন লোকসমাজের পাতায় স্থান পায়—এটাই ছিল পত্রিকাটির অন্যতম দর্শন।
সম্পাদকীয় নেতৃত্ব ও একঝাঁক তরুণ সাংবাদিক
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে লোকসমাজের সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন ফকির শওকত, আব্দুল হাসিব, নার্গিস বেগম, দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং আনোয়ারুল কবির নান্টু। নার্গিস বেগম বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বলে লেখকের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইসলাম অমিত। বর্তমানে প্রকাশনার দায়িত্বে রয়েছেন শান্তনু ইসলাম সুমিত।
লোকসমাজের শুরুর দিকে একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী সাংবাদিক পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পাবলো শাহী, অধ্যাপক আইয়ুব হোসেন, লেখক ও গবেষক বেনজিন খান, ড. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ, মিলন শেখ, আনোয়ারুল কবির নান্টু, তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস, মিজান মাহমুদ, রাজেক জাহাঙ্গীর, আব্দুল্লাহ হুসাইন, সিদ্দিক হোসেন, সাইফুর রহমান সাইফ, হানিফ ডাকুয়া, জাহিদ আহমেদ লিটন, মিজানুর রহমান, এস এম সোহেল ও সাইফুল ইসলাম সজল।
তাঁদের মেধা, শ্রম ও উদ্যম লোকসমাজকে দ্রুত পাঠকের কাছে পরিচিত করে তোলে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখালেখি, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সামাজিক সমস্যা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পত্রিকাটির পাতায় গুরুত্ব পেতে থাকে।
পরবর্তী সময়ে আরও অনেক তরুণ সাংবাদিক লোকসমাজের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁদের অনেকের কর্মজীবনের সূচনাও ঘটে এই পত্রিকার মাধ্যমে। ফলে লোকসমাজ শুধু সংবাদ প্রকাশের প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, নতুন সাংবাদিক তৈরির ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রযুক্তির নতুনত্ব ও আধুনিক ছাপা
লোকসমাজ যখন যাত্রা শুরু করে, তখন সংবাদপত্র প্রকাশের প্রযুক্তি আজকের মতো সহজ ও আধুনিক ছিল না। কম্পিউটার পেস্টিংয়ের কাজের জন্য ঢাকা থেকে লোক আনা হয়েছিল।
সে সময় আধুনিক ছাপা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে লোকসমাজ ছিল ব্যতিক্রমী। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপনা পত্রিকাটিকে পাঠকের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। পাঠকের আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রচারও বিস্তৃত হতে থাকে। যশোরের গণ্ডি পেরিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে লোকসমাজের প্রচার ও পাঠকসংখ্যা।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ
লোকসমাজের পথচলার সঙ্গে শুধু সাংবাদিকতা নয়, অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে।
পত্রিকাটির কার্যক্রম বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার অনেক বেকার যুবক সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। কেউ সংবাদ সংগ্রহ করেছেন, কেউ বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করেছেন, কেউ সম্পাদনা ও প্রকাশনার কাজে যুক্ত হয়েছেন।
অনেক সাংবাদিক সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিজ্ঞাপন সংগ্রহের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আমিও একজন। লোকসমাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছি, একটি সংবাদপত্র শুধু সংবাদ পরিবেশন করে না; এটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বিকাশ এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার পথও তৈরি করতে পারে।
এভাবে লোকসমাজ একদিকে সাংবাদিকতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে, অন্যদিকে অনেক তরুণের বেকারত্ব দূর করে তাঁদের কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
একটি সংবাদপত্র নয়, একটি প্রজন্মের ইতিহাস
তিন দশকের পথচলায় লোকসমাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অসংখ্য সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী। তাঁদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সাংবাদিকতায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তাই লোকসমাজের ইতিহাস শুধু একটি পত্রিকা প্রকাশের ইতিহাস নয়; এটি একটি প্রজন্মের সাংবাদিক হয়ে ওঠার ইতিহাসও। মানুষের কথা বলা, সমাজের অসংগতি তুলে ধরা, প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও সমস্যাকে সামনে নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে পত্রিকাটি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে।
১৯৯৬ সালের সেই ঝড়-বৃষ্টির দিনে যে পত্রিকার জন্ম, সময়ের প্রবাহে আজ তা তিন দশকের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। তরিকুল ইসলামের স্বপ্ন ছিল একটি ‘প্রতিশ্রুতিশীল দৈনিক’ প্রতিষ্ঠা করা। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখেই লোকসমাজ তার যাত্রা শুরু করেছিল। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ অনেকে মনে করেন, সেই স্বপ্নের অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়েছে।
লোকসমাজ মানুষের কথা বলেছে, মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা বলেছে, সমাজের অসংগতির কথা বলেছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জনজীবনের নানা বিষয় সংবাদ ও লেখার মাধ্যমে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছে।
লোকসমাজের প্রথম সম্পাদক ফকির শওকতের কাছে পত্রিকাটির সাফল্যের পেছনের গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে লোকসমাজ আজকের পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। লোকসমাজ সাধারণ মানুষের কথা বলে যাবে অনন্তকাল—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
প্রত্যাশা অনন্ত পথচলার
একটি সংবাদপত্রের বয়স শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায় মাপা যায় না। তার বয়স মাপা যায় মানুষের হৃদয়ে তার অবস্থান দিয়ে। লোকসমাজের তিন দশকের পথচলাও তাই শুধু প্রতিষ্ঠার তারিখ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়ের হিসাব নয়; এটি হাজারো মানুষের ভালোবাসা, শ্রম, ত্যাগ ও সহযোগিতার সম্মিলিত ইতিহাস।
আজ প্রতিষ্ঠার তিন দশক পরও সেই প্রত্যয় উচ্চারিত হয়—লোকসমাজ বেঁচে থাকুক অনন্তকাল।
যশোরের মাটি ও মানুষের কথা বলার এই প্রতিষ্ঠান আরও বহু বছর মানুষের পাশে থাকবে, সমাজের দর্পণ হয়ে থাকবে এবং গণমানুষের হৃদয়ের কথা তুলে ধরবে—এটাই প্রত্যাশা। সবার সহযোগিতা, ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় দৈনিক লোকসমাজ তার পথচলা অব্যাহত রাখুক অনন্তকাল। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য হয়ে উঠুক আরও বড় একটি শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্র।
তরিকুল ইসলামের যে স্বপ্ন থেকে লোকসমাজের জন্ম, সেই স্বপ্নের আলোয় গণমানুষের কথা বলার এই পথচলা কখনো থেমে না যাক—এই প্রত্যাশাই হোক লোকসমাজের আগামী দিনের অঙ্গীকার।
-এস এম সোহেল : যশোর সংবাদদাতা, দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও দৈনিক বাংলাদেশ সময়,
সাবেক সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক লোকসমাজ, যশোর।