শার্শা-বেনাপোলে কুকুরের কামড়ে দুই মাসে আহত ৭৫০, আতঙ্ক এলাকায়

প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

0
শার্শা-বেনাপোলে কুকুরের কামড়ে ৭৫০ আহত

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত দুই মাসে কুকুরের কামড়ে শিশু, শিক্ষার্থী ও পথচারীসহ প্রায় ৭৫০ জন আহত হয়েছেন। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কুকুরের আক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও বেনাপোল পৌরসভার বিভিন্ন হাট-বাজার, সড়ক, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেওয়ারিশ কুকুর। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রায়ই কুকুরের তাড়া ও আক্রমণের শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঘর থেকে বের হলেই পথচারীদের ওপর কুকুরের ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। এতে শিশু, নারী ও বয়স্কদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েছে।

কুকুরের কামড়ে আহতদের চিকিৎসা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। তবে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ জানিয়েছেন, রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার সাহা বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে পোষা কুকুর ও বিড়ালকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। কুকুরের অস্বাভাবিক আচরণ বা আক্রমণাত্মক প্রবণতা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে ওয়াহিদ জানিয়েছেন, ডগ-ক্যাচার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ কুকুরকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমাতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় কুকুরের উপদ্রব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।