সুলতানপুর নুরুল ইসলাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সম্মাননা

0
ছবি: লোকসমাজ।

অনলাইন রিপোর্টার॥  যশোর সদর উপজেলার সুলতানপুর নুরুল ইসলাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত তিনজন গুণী শিক্ষককে এক ভাবগম্ভীর ও আবেগঘন পরিবেশে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

​সংবর্ধিত তিন বিদায়ী শিক্ষক হলেন সহকারী শিক্ষক নওশের আলী, সহকারী শিক্ষক মোছা: আফরোজা বুলবুল এবং সহকারী শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলাম। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা জীবনে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়।

​বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বি এম কিয়াম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ারুল কবির নান্টু বলেন, শিক্ষকরা হচ্ছেন সমাজ গড়ার কারিগর। চাকরি থেকে অবসর নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও একজন প্রকৃত শিক্ষকের শিক্ষা ও আদর্শ কখনো অবসরে যায় না। বিদ্যালয়ে তাঁদের রেখে যাওয়া অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনজারুল হক খোকন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল বারী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমান।

​অনুষ্ঠানে আবেগঘন মুহূর্তে বিদায়ী শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ও উপদেশমূলক বক্তব্য দেন। তারা বলেন, শুধু জিপিএ-৫ পাওয়া বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সফল হওয়াই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। সত্যিকারের মানুষ হতে হলে নীতি-নৈতিকতা, সততা ও সুসংগঠিত চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং গুরুজনদের শ্রদ্ধা করতে হবে।

ছবি: লোকসমাজ।

​শিক্ষকদের বিদায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নেমে আসে এক বিষাদের ছায়া। বিদায়ী পর্বের অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত শিক্ষকদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা আবেগপ্লুত হয়ে পড়ে। তারা জানায়, স্যারদের শাসন ও স্নেহের শিক্ষা তাদের জীবনের পথচলায় আজীবন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ক্লাসরুমে স্যারদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা আর অভিভাবকতুল্য স্নেহের স্মৃতি তারা কখনোই ভুলবে না।

​অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।