ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

0
চট্টগ্রাম নগরে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় আহত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় চমেক হাসপাতালে মারা গেছেন। এ ঘটনায় বাসের চালক ও স্টাফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার (২৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ সোমবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের ওয়াসা মোড়ের ইস্পাহানি চেকপোস্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আল আমিন সরদার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অর্ডার ম্যানেজমেন্ট শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। তার বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, রোববার সকালে ওয়াসা মোড়ের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের সময় আল আমিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য সন্দেহজনকভাবে হাঁটতে থাকা তিন যুবককে থামার সংকেত দেন। এ সময় তাদের মধ্যে থেকে একজন পালানোর চেষ্টা করলে চেকপোস্টের ইনচার্জ এএসআই হিরণ মিয়া তার পিছু নেন। একই সময়ে কনস্টেবল আল আমিনও মোটরসাইকেল নিয়ে অন্য পথ দিয়ে গিয়ে ওই যুবককে আটকানোর চেষ্টা চালান।

ঘটনাপ্রবাহে আল আমিন মসজিদের পশ্চিম ফটকের দিকে এগিয়ে গেলে লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে তাকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চেকপোস্টে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাসটির চালক ও স্টাফকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেন।

দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত আল আমিনকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ঘাতক বাসের চালক মোশাররফ (৩৮) ও স্টাফ জয় দাসকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সাথে দুর্ঘটনা ঘটানো বাসটিও জব্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালী থানার ওসি জাহেদুল কবির বলেন, চমেকের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনস্টেবল আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে তার লাশের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।