শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে কাটছে জটিলতা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাচ্ছেন মিশন

0
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে কাটছে জটিলতা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাচ্ছেন মিশন
রোববার দুপুরে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খাঁন- লোকসমাজ

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা, লোকসমাজ : স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া ঝিনাইদহের মিশন আচার্যের নিয়োগ-সংক্রান্ত জটিলতা কাটতে যাচ্ছে।

তাঁর নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনের উদ্যোগের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার সকালে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক ডিও লেটারে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও স্থায়ী বসতভিটার কাগজপত্রজনিত জটিলতায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাকরিপ্রার্থী মিশন আচার্য (রোল নম্বর-৬৫১৫৩২৮) নিয়োগপত্র পাননি।

ডিও লেটারে তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিশন আচার্য জন্মলগ্ন থেকেই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় বসবাস করছেন। সেখানেই তাঁর জন্ম এবং বর্তমানে তিনি একই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ছোটবেলা থেকেই পিতৃহীন মিশন আচার্যকে তাঁর মা কঠোর পরিশ্রম করে লেখাপড়া করিয়েছেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।

রাশেদ খাঁন মানবিক বিবেচনায় এবং বিধি অনুযায়ী মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি ডিও লেটারে মিশনকে একজন ভদ্র ও মেধাবী তরুণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে রোববার দুপুরে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খাঁন। সাক্ষাৎকালে মিশনের নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

এর আগে স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও মিশন আচার্যের নিয়োগ না পাওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখন প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে মিশন আচার্যের যোগদানের পথ সুগম হবে।