ঈদুল আজহার পর প্রথম চামড়ার হাট জমেনি যশোরের রাজারহাটে

ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও জমেনি কেনাবেচা।

0

শিকদার খালিদ, লোকসমাজ : দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাটে ঈদুল আজহার পর শনিবার বসেছে প্রথম চামড়ার হাট। তবে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও জমেনি কেনাবেচা। চামড়ার মান ও দাম নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যেই ছিল অসন্তোষ।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়া দেশের চামড়া শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের পর প্রথম হাট বসেছে রাজারহাটে। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার হাটে ছিল কিছুটা ভিন্ন চিত্র। চামড়া থাকলেও প্রত্যাশিত সংখ্যক ক্রেতার দেখা মেলেনি।

ব্যবসায়ী মমিনুল মালিক পলাশ জানান, ঈদের মাত্র একদিন পর হাট বসায় অনেকেই প্রস্তুতি নিতে পারেননি। ফলে চামড়া সংগ্রহ ও হাটে আনার পরিমাণও তুলনামূলক কম ছিল।

অন্যদিকে দর নিয়ে সন্তুষ্ট নন বিক্রেতারা। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

যশোর রাজারহাটের চামড়ার হাট
পবিত্র ঈদুল আজহার পর শনিবার ছিল প্রথম চামড়ার হাট যশোরের রাজারহাটে- লোকসমাজ

খুলনার ডুমুরিয়ার সরাফপুর দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, “৭২ পিস চামড়া নিয়ে এসেছি। কিন্তু দাম এত কম যে আনা-নেওয়ার খরচই ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

একই অভিযোগ করেন বাগেরহাটের আবু জাফর। তিনি বলেন, “রাত ৩টায় উঠে ৮০ পিস চামড়া নিয়ে রাজারহাটে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছি না। ব্যবসায়ীরা এক ধরনের সিন্ডিকেট করে ২০০, ২৫০ বা ৩০০ টাকা দাম বলছেন। এত কষ্ট করে চামড়া সংগ্রহ করে এনে এ দামে বিক্রি করলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।”

তবে পেশাদার ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে ভালো মানের চামড়ার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজনিত নানা সমস্যার কারণে মানসম্মত চামড়া পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

বৃহত্তর যশোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “ভালো ও নিম্নমানের পণ্যের দামের পার্থক্য সব ক্ষেত্রেই থাকে। আজকের হাটে ভালো মানের গরুর চামড়া এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি মানের চামড়ার দাম ছিল ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা। তবে পক্স আক্রান্ত গরুর কিছু চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা না বুঝে কিনে আনেন, যেগুলোর বাজারমূল্য প্রায় নেই বললেই চলে।”

ব্যবসায়ী নেতা হাসিব চৌধুরী বলেন, সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করে তা মূলত ট্যানারিগুলো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মাঠপর্যায়ে চামড়ার দাম নির্ভর করে মান, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও বাজার চাহিদার ওপর।

তিনি বলেন, “ঈদের পর প্রথম হাটে যারা চামড়া নিয়ে আসেন, তাদের অধিকাংশই মৌসুমি ব্যবসায়ী বা বিভিন্ন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। অনেক ক্ষেত্রে চামড়ায় সঠিকভাবে লবণ প্রয়োগ করা হয় না। ফলে চামড়ার মান কমে যায় এবং দামও কমে যায়।”

সব মিলিয়ে ঈদের পর প্রথম হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই ছিল অপেক্ষার অবস্থানে। তবে ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী শনিবারের হাটে আরও বেশি চামড়া উঠবে এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ চামড়ার বাজার রাজারহাটে কেনাবেচা আরও জমে উঠবে।