বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ছে না, তবুও যশোরে চড়া দামে বিক্রি: অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ

প্রায় দুই মাস আগে থেকেই যশোরের বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট ও বিড়ির দাম বাড়ানো হয়েছে

0
বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ছে না, তবুও যশোরে চড়া দামে বিক্রি
গ্রাফিক্স : প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি-সিগারেটের দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে বাজেটে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়তে পারে—এমন গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই মাস আগে থেকেই যশোরের বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট ও বিড়ির দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্রেতারা।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। ফলে নতুন অর্থবছরে তামাকজাত পণ্যের দামে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

সরকারের এ ঘোষণার পর যশোরের ধূমপায়ীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যদি বাজেটে দাম না বাড়ে, তাহলে গত দুই মাসে বাড়ানো সিগারেটের দাম কি আগের অবস্থায় ফিরবে?

শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগে প্রতি শলাকা ১৫ টাকায় বিক্রি হওয়া গোল্ডলিফ বর্তমানে ১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১২ টাকার লাকি স্ট্রাইক (সাদা) বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকায়, ১০ টাকার ক্যামেল বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায় এবং ৬ টাকার রয়্যাল সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকায়। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের ক্ষেত্রে শলাকাপ্রতি ১ থেকে ৩ টাকা এবং বিড়ির প্যাকেটপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, মূল্যবৃদ্ধির জন্য তারা দায়ী নন। যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার চা-সিগারেট বিক্রেতা আলতাফ হোসেনসহ কয়েকজন দোকানদার বলেন, “আমরা যেভাবে কিনি, সেভাবেই বিক্রি করি। ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে পণ্য নিতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

তাদের অভিযোগ, ডিলার পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার যথাযথ তদারকি না থাকায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ভোক্তাদের দাবি, যখন সরকারিভাবে সিগারেটের দাম বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তখন বাজারে অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভোক্তাদের মতে, বাজারে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।