ইবিতে শিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে বহিরাগতদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক

একাংশের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

0
ইবিতে শিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে বহিরাগত

ইবি সংবাদদাতা, লোকসমাজ : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাখা ছাত্রশিবির। তবে মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহিরাগতদের অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকজন স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও বহিরাগত ব্যক্তিকেও অংশ নিতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন বলে জানিয়েছেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া ভাদালিয়া এলাকার এক যুবক বলেন, “আমি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে পড়ি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসেছি।”

আরেক অংশগ্রহণকারী বলেন, “ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসেছিলাম। বড় মিছিল দেখে এতে যোগ দিয়েছি।”

এদিকে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগতদের অংশগ্রহণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “আমাদের কর্মসূচির ঘোষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্টেকহোল্ডার এবং জুলাই আন্দোলনের অংশীদারদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন কয়েকজন ব্যক্তি কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন। প্রশাসন পরিচয়পত্র যাচাই করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতো।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, “ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে আজকের কর্মসূচিতে বহিরাগত কেউ অংশ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা আমাকে কিছু জানায়নি। দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করলে তাৎক্ষণিকভাবে সবার পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।”