মানবপাচার মামলার ফাইনাল রিপোর্টে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ, এসআইর বিরুদ্ধে তদন্ত

সুষ্ঠু তদন্তের পরিবর্তে ঘুষ দাবি এবং আসামিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন মামলার দুই বাদী।

0
মানবপাচার মামলার ফাইনাল রিপোর্টে স্বাক্ষর জালের অভিযোগ
অভিযুক্ত এসআই মো. নাহিদুর রহমান - সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু থানায় দায়ের হওয়া দুটি মানবপাচার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে বাদী ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর জাল করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের পরিবর্তে ঘুষ দাবি এবং আসামিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন মামলার দুই বাদী।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাবিবুল্লাহ বাশার ও রাশেদুল ইসলাম ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ফলসি গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ বাশার ও রাশেদুল ইসলামকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা নিয়ে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে একটি চীনা পরিচালিত ক্যাসিনোতে তাদের জিম্মি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের পাশাপাশি পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণও আদায় করা হয়। দেশে ফিরে তারা মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালে পৃথক দুটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরে আদালতের নির্দেশে গত ৬ মে হরিণাকুণ্ডু থানায় নিয়মিত দুটি মামলা রুজু হয়।

বাদীদের অভিযোগ, তদন্তভার পাওয়ার পর এসআই নাহিদুর রহমান সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তারা এতে রাজি না হলে আসামিদের সঙ্গে আপস করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। আপসে সম্মত না হওয়ায় গত ৩০ জুন আদালতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনের পর আসামিরা জামিনে মুক্তি পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, চূড়ান্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত তদন্ত ফলাফলের নোটিশে বাদী রাশেদুল ইসলাম এবং সাক্ষী হাফিজ, মিন্টু ও মিল্টনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এছাড়া সাক্ষী মিল্টনের পিতার নাম ভুল উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কম্বোডিয়া থেকে ফেরার সময় একই বিমানে পাশাপাশি আসনে ভ্রমণ করলেও তদন্ত প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্ন আসন নম্বর দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী হাবিবুল্লাহ বাশার ও রাশেদুল ইসলাম বলেন, তারা মামলার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, মানবপাচারের অভিযোগের পক্ষে অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি বাদীরা দিতে পারেননি। সে কারণে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ঘুষ দাবির অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বিভাগের কেউ অনিয়ম করলে তার দায় বিভাগ নেবে না।