চৌগাছায় জমে উঠেছে কুরবানির পশুহাট

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে চৌগাছার পশুহাট। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। পশুহাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুশি ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই।

চৌগাছা-মহেশপুর মেইন সড়কের পাশে বিস্তুৃত মাঠ যার পুরোটাই ছাঁয়া শীতল, আছে হোটেল রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান, নামাজের স্থান টয়লেট। নানাবিধ এসব সুবিধার কারণে এ হাটে যেমন আসতে পছন্দ করেন ক্রেতারা ও তেমনই বিক্রেতাদের এখানে পশু বিক্রি করতে এসে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

এ পশুহাটের ইজারাদার আতাউর রহমান লালের আদায়কারীরা হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক দেখভাল করেন।

সোমবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে পশুহাটে ঘুরে দেখা যায়, বাহারি রংসহ সব ধরনের গরু-ছাগল হাটে নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা। গরু বিক্রেতা উপজেলার বেলেমাঠ গ্রামের ইব্রাহীম হোসেন বলেন,‘এ বছর হাটে দেশি গরু বেশি উঠেছে। তবে গরু পালনকারী হিসেবে আমার মনে হচ্ছে দাম কিছুটা কম। কেননা একটি গরু পালনে যে ব্যয় সেভাবে দাম উঠছে না।’

পার্শ্ববর্তী উপজেলা মহেশপুরের শামান্তা এলাকার আব্দুর রাজ্জাক বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড় নিয়ে এসেছেন, দাম হাকা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। তিনি বলেন সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। ইছাপুর থেকে ফকরুল ইসলাম গেছেন একটি পছন্দের গরু কিনতে। বিক্রেতা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দাম চেয়েছেন, তিনি ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দাম বলেছেন। হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মহাখুশি ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

নোয়াখালী থেকে গরু কিনতে এসেছেন আমানউল্লাহ ব্যাপারি। তিনি বলেন, দেশের মধ্যে পছন্দের তালিকায় চৌগাছা পশুহাট। এখানে স্থানীয়দের আচরণে আমি খুশি। বছরের বার মাসই ব্যবসার জন্য গরু এই হাট থেকে কিনে এলাকায় নিয়ে বিক্রি করি। ঈদের সময় বেশি সংখ্যক কেনা হয়।

রাজধানী ঢাকার ব্যাপারি হাজী সাহেব। তিনি হাট মালিকদের অনুমতি নিয়ে পশুহাটের মাঝে একটি উচু টোং তৈরি করেছেন। সেখানে বসে নিযুক্ত লোকদের মাধ্যমে ৫/৬ ট্রাক গরু নিয়ে রওনা দেন ঢাকায়। তিনি বলেন, মনোমুগ্ধকার এক পরিবেশ চৌগাছা পশুহাটে। হাট মালিকদের সহযোগিতার কারণে বাড়তি চাপ নিতে হয় না। আর এই হাট থেকে পশু কিনে ব্যবসায়ীরা বেশির ভাগই লাভবান হন।