রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি: ডার্ক ওয়েবে মিলছে টেলিটকের হাজারো তথ্য

0
ঝুঁকির মুখে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো; টেলিটকের ডোমেইনভিত্তিক তথ্য ফাঁসের প্রমাণ শনাক্ত ।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের অভ্যন্তরীণ ই-মেইল সার্ভার ও কর্মকর্তাদের তথ্যভাণ্ডারসহ এক হাজারের বেশি সংবেদনশীল তথ্য ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে পড়েছে। সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স পর্যবেক্ষণে একাধিক ‘ডেটা ব্রিচ’ ও ডোমেইনভিত্তিক তথ্য ফাঁসের প্রমাণ মিলেছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও জনআস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাপ্ত তথ্য ও স্ক্রিনশট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘teletalk.com.bd’ ডোমেইনের আওতায় ১ হাজার ১৯৫টির বেশি ‘ওপেন ডেটা ব্রিচ’ এবং প্রায় ১ হাজার ২০০টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। অপরাধীরা টেলিটকের পরিচয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করে অন্তত ১৯টি পৃথক হ্যাকিং কার্যক্রম চালিয়েছে। এমনকি গত এপ্রিলেও সন্দেহজনক সাইবার তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বিষয়টি নজরে আসার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, এটি একটি কারিগরি বিষয় এবং এ নিয়ে তথ্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্য ফাঁসের কারণ হতে পারে ইনফোস্টিলার ম্যালওয়্যার, ফিশিং ক্যাম্পেইন কিংবা ভেন্ডর সিস্টেমের দুর্বলতা। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভির হাসান জোহা সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা নয়, বরং পুরো টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর জন্য উচ্চ ঝুঁকি। সাইবার অডিট বাধ্যতামূলক না হওয়া এবং তদারকির অভাবকে এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষক ইমরান হোসেন। এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এনআইডি তথ্য ফাঁসের ঘটনার পর টেলিটকের এই বিপর্যয় রাষ্ট্রীয় ডিজিটাল অবকাঠামোর গভীর কাঠামোগত দুর্বলতাকেই সামনে এনেছে।