চৌগাছায় বৃষ্টিতে ভেজা পাকা বোরো ধানক্ষেতের দৃশ্য

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর), লোকসমাজ :
দিনে রোদের দেখা মিললেও রাতে বৃষ্টির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার বোরোচাষিরা। পাকা ধান মাঠে পড়ে থাকায় এবং সময়মতো কাটতে না পারায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান পাকার পর থেকেই টানা বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। কখনও ঝড়ো হাওয়া, কখনও বৃষ্টি আবার কখনও শিলাবৃষ্টির কারণে কৃষকেরা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না। ফলে বিঘার পর বিঘা জমির ধান এখনো মাঠেই পড়ে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চৌগাছার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে মোট ১৮ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও ধান পাকার সময় থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায়।
শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের প্রায় অর্ধেক ধান এখনো জমিতেই পড়ে আছে। কিছু কৃষক ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটলেও তা শুকাতে না পেরে পানির ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
চাঁদপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “এক বিঘা জমির ধান কেটে রেখেছিলাম। কিন্তু রাতে বৃষ্টিতে সব পানিতে ভেসে গেছে। এখন সেই ধান বাড়িতে নিতে হিমশিম খাচ্ছি।”
একই গ্রামের আরেক কৃষক জানান, দিনের রোদ দেখে ধান কাটলেও রাতে বৃষ্টির কারণে সব শ্রমই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ধান মাঠেই রেখে দিয়েছেন।
উপজেলার নিচু এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে জানান কৃষকেরা। পাশাপোল ইউনিয়নের দশপাকিয়া গ্রামের শিমুল হোসেন ও সাইফুল ইসলাম বলেন, নিচু জমির কারণে এবার ধান নিয়ে তারা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
সিংহঝুলী গ্রামের কৃষক শাহিনুর রহমান বলেন, “প্রায় ১২ বিঘা জমির ধান চাষ করেছি। এখনো অর্ধেক ধান মাঠে পড়ে আছে। যা কেটেছি তাও নিরাপদে ঘরে আনতে পারিনি।”
স্বরুপদাহ গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, “এ ধরনের আবহাওয়ার মুখোমুখি আগে কখনো হইনি। দিনের রোদে আশায় থাকি, রাতে বৃষ্টিতে সব ভেঙে পড়ে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, “আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ধান ঘরে এসেছে। ভারী বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।”