বোতলজাত সয়াবিনের সংকট চলছেই, কমছে সবজির দাম

0
যশোরের বড় বাজারে বোতলজাত তেলের সংকটের মুখে ড্রাম থেকে খোলা তেল মেপে দিচ্ছেন এক বিক্রেতা।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন॥ যশোরের বাজারে দোকানগুলোতে এ সপ্তাহেও বোতলজাত সয়াবিন তেল দেখা যায়নি। পাওয়া যাচ্ছে খোলা তেল। বিক্রেতাদের দাবি তেল সরবরাহকারীরা সরকারকে চাপ দিয়ে আরও দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এদিকে বৈশাখ মাসেও বাজারে ইলিশ মাছ সহজপ্রাপ্য হয়নি। তবে আমদানি বেড়ে কিছুটা কমেছে কয়েক ধরনের সবজির দাম।

যশোর শহরের বড় বাজারে রোববারও খুচরা দোকানগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন তেল সরবরাহকারীরা সরকারকে চাপ দিয়ে আরও দাম বাড়ানোর চেষ্টায় কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করেছে। তবে প্রায় সব দোকানেই স্বাভাবিকভাবে খোলা ভোজ্যতেল পাওয়া যাচ্ছে।

বড় বাজারের খুচরা ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী রবি ব্যানার্জি জানান, এ সপ্তাহেও বাজারে খোলা তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি রোববার প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ টাকা, পাম তেল ১৮০ টাকা, সুপার তেল ১৮৫ টাকা ও সরিষার তেল ২০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

তিনি আশঙ্কা করছেন, সরকারের জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ানোর সুযোগটা পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিতে পারেন। তারা গাড়িভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে হয়ত পাইকারি বাজারে খোলা ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেবেন। সেক্ষেত্রে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়বে।

এদিকে নতুন বাংলা বর্ষে বৈশাখেও বাজারে ইলিশ মাছের তেমন দেখা মিলছে না। বাজারে নেই এক কেজি ওজনের ইলিশ। বড় বাজার মাছবাজারের খুচরা ইলিশ বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, তিনি রোববার ৭০০/৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি করেছেন ২৫শ টাকা, ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৮শ টাকা ও ৩০০/৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১৩শ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

মাছ বিক্রেতা এরশাদ আলী ও আলাউদ্দিন বিশ্বাস জানান, ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে সাগর ও দেশের ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণে বাজারে আমদানি অনেক কম। এদিকে, বাজারে অন্যান্য মাছের সরবরাহও কমে এসেছে।

রোববার খুচরা বিক্রেতা রতন বিশ্বাস জানান, আড়াই কেজি ওজনের কাতল মাছের কেজি ৩২০ টাকা, ২ কেজি ওজনের রুই মাছের কেজি ৩৩০ টাকা, ট্যাংরা মাছ ৪৮০ থেকে ৫৮০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বাইন মাছ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, বাটা ২০০ টাকা, বেলে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ও পুঁটি মাছ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

তবে চলতি সপ্তাহে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। বড় বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা কৃষ্ণ চন্দ্র দাস জানান, রোববার মানভেদে উচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, গত সপ্তাহে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। শিম বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। বরবটি বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। ঢেঁড়স বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কুশি বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। লেবুর হালি বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। পটল বিক্রি হয়েছে ৬০টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।।

তাছাড়া অন্যান্য সবজির দর এ সপ্তাহেও অপরিবর্তিত রয়েছে। যেমন,শসার কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পালংশাক ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

বড় বাজারের কাঁচামালের আড়তদার শাহাবুদ্দিন মাতুব্বর ও সুজিত কাপুড়িয়া বাবলু জানান, গ্রীষ্মের শুরতেই প্রচণ্ড তাপ্রবাহের কারণে সবজির ফলন কমেছিল। বর্তমানে আবার নতুন করে ফলন আসায় বাজারে সরবরাহ বাড়ছে। তারা আশা করছেন আগামী সপ্তাহ থেকে বাজারে আরও সবজির সরবরাহ বেড়ে দাম কমে আসবে।