চৌগাছায় হাট ইজারা নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রেসক্লাব যশোরে

0
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইজারাদারের সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা; তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থার দাবি।। ছবি: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাট ও মাছ বাজারের ইজারাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে এক ব্যবসায়ী থানায় অভিযোগ করেছেন বলে। এ ঘটনায় রোববার প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

চৌগাছা উপজেলার নিরিবিলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. আতিকুর রহমান লেন্টু এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৫ মার্চ পৌরসভার সাধারণ হাটের টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫০ টাকায় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য তিনি ইজারা লাভ করেন। ইজারা পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে এবং হাটের খাজনা উত্তোলনে বাধা দেওয়ার হুমকি দেয়।

লিখিত অভিযোগে মো. শুকুর আলী (৪৫), কাঠগড়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিএম হাফিজুর রহমান, মো. আব্দুর রহিম (৫২), মো. মাসুদ (৪০), মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩৮) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ১৪ এপ্রিল থেকে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক হাটের কাঁচাবাজার, মাছ বাজার ও ফুটপাতের দোকান থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ভুক্তভোগীর খাজনা আদায়কারী মো. আরিফুল ইসলাম অসিম (৪০) মাছ বাজার এলাকায় গেলে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে খাজনা আদায়ে বাধা দেয়, গালিগালাজ করে এবং তার রশিদ বই ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে বাজার এলাকা থেকে বের করে দেয়। ঘটনার সময় স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. শফিউদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

এর আগে চৌগাছা পশুহাট নিয়ে কোটি টাকার ঊর্ধ্বে অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ব্যক্তিবর্গ ওই অর্থ ভাগ করে নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।