কুষ্টিয়ায় পীর আবদুর রহমান হত্যা: হুকুমের আসামি জামায়াত নেতা, চার দিনেও নেই কোনো গ্রেপ্তার

0
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অগ্নিদগ্ধ দৌলতপুরের ফিলিপনগর এলাকার সেই দরবার শরিফ; যেখানে লুটপাটেরও অভিযোগ উঠেছে।। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম (৫৭) হত্যাকাণ্ডের চার দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে (৩৮) প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে। খাজা আহমেদ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য।

মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান (৩৫), রাজীব মিস্ত্রী (৪৫) ও মো. শিহাব। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শনিবার দুপুরে ১ নম্বর আসামি খাজা আহমেদের হুকুমে সশস্ত্র অবস্থায় আসামিরা ফিলিপনগরের দরবার শরিফে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় রাজীব মিস্ত্রীসহ অন্য আসামিরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আবদুর রহমানকে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। হামলায় বাধা দিতে গিয়ে জোবায়ের (৩১) এবং দরবার পরিচারিকা জামিরনও আহত হন। আসামিরা দরবার থেকে ৫ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াত। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা আমির বেলাল উদ্দীন ও সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল নোমান দাবি করেছেন, এই ঘটনা কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ নয় এবং এর সাথে দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। তারা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।