ইউরোপের দামী ফসল এখন যশোরের চৌগাছায়; ভ্যানিলা চাষে নতুন বিপ্লব

0
যশোরের চৌগাছায় নিজের ভ্যানিলা বাগানে নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত উদ্যোক্তা সরোয়ার হোসেন।। ছবি: লোকসমাজ

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর)॥ ইউরোপের দেশগুলোতে চাষ হওয়া বিশ্বের দ্বিতীয় দামি অর্থকরী ফসল ভ্যানিলা এখন দুলছে যশোরের চৌগাছার মাটিতে। উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের স্বর্পরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট সরোয়ার হোসেন দীর্ঘ চার বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় এই বিরল ও মূল্যবান ফসল চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। বর্তমানে তাঁর বাগানের প্রতিটি গাছের ডগায় ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে, যা দেখে বাম্পার ফলনের আশা করছেন এই উদ্যোক্তা।

সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল সরোয়ার হোসেনের। বিদেশের মাটিতে ভ্যানিলার আকাশচুম্বী দাম ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। অবসরে আসার পর নিজ গ্রামের মাটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই চাষ শুরু করেন। শুরুতে কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অভাবে প্রথম কয়েক বছর কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলেও তিনি হাল ছাড়েননি। বর্তমানে তাঁর পরিশ্রম সার্থকতা পেয়েছে। সরোয়ার জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এক কেজি শুকনো ভ্যানিলা ফলের দাম মানভেদে ৬ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি মূলত উন্নত মানের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, আইসক্রিম, কেক ও দামী পারফিউমের অপরিহার্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ ছাড়াও যশোরে এই বিরল ফসলের চাষ হচ্ছে। সরোয়ার হোসেন জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়া ভ্যানিলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তবে এর পরাগায়ন প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। যদি সরকারের পক্ষ থেকে এই চাষে সঠিক কারিগরি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায়, তবে যশোরের এই ভ্যানিলা দেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। বেকার যুবকদের জন্য ভ্যানিলা চাষ একটি আয়ের নতুন দিগন্ত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা।