২৫০ টাকার আমদানি করা হেলমেট বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজারে

0
রাজধানীর একটি পাইকারি বাজারে স্তূপ করে রাখা নিম্নমানের হেলমেট, যা দুর্ঘটনায় সুরক্ষায় অক্ষম ।। ছবি: এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ দেশে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জীবনরক্ষাকারী হেলমেট আমদানিতে ভয়াবহ জালিয়াতি, শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থপাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সুপরিচিত ব্র্যান্ডের একেকটি হেলমেট মাত্র ২ থেকে ৩ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫০-৩৭০ টাকা) আমদানিমূল্য দেখিয়ে খালাস করা হচ্ছে। অথচ রাজধানীর মিরপুর, বংশালসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে একই হেলমেট ২ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এই বিশাল মূল্যের পার্থক্যের আড়ালে একদিকে যেমন সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’-এর মাধ্যমে দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থপাচার করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রায় ১০ লাখ ১৯ হাজার হেলমেট আমদানি হয়েছে, যার সিংহভাগই এসেছে ভারত ও চীন থেকে। আমদানিকারকরা বড় ব্র্যান্ডের নাম গোপন করে নথিপত্রে কেবল ‘হেড সেফটি গিয়ার’ উল্লেখ করে নামমাত্র শুল্কায়ন মূল্যে পণ্য ছাড়িয়ে নিচ্ছেন। এতে প্রকৃত মূল্যের ওপর প্রযোজ্য ৫৮ শতাংশ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যমতে, গত ১০ বছরে বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যার একটি বড় অংশ এই ধরনের আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

বাণিজ্যিক জালিয়াতির পাশাপাশি বাজারে বিক্রি হওয়া হেলমেটের মান নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মানসম্মত হেলমেট মৃত্যুঝুঁকি ছয় গুণ এবং মস্তিষ্কে আঘাতের ঝুঁকি ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। তবে বাংলাদেশের বাজারে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায় যেসব হেলমেট পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা সেগুলোকে নিছক ‘প্লাস্টিক টুপি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক মান পরীক্ষার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ আমদানিকারক ও বিক্রেতা তা মানছেন না। এমনকি আন্তর্জাতিক মানচিহ্ন ‘ইসিই’ বা ‘ডট’ নকল করেও বাজারে অহরহ নিম্নমানের হেলমেট বিক্রি হচ্ছে।

দেশীয় উদ্যোক্তারাও এই অসম প্রতিযোগিতার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাদের মতে, আমদানির সময় যথাযথ মান পরীক্ষা এবং সর্বনিম্ন শুল্কায়ন মূল্য (মিনিমাম অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু) নির্ধারণ না করায় দেশীয় শিল্প বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বুয়েট অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, চার চাকার চেয়ে দুই চাকার যানের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই মানহীন হেলমেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

সূত্র: প্রথম আলো