নির্বাচনকে ঘিরে যশোর সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি

0

মো. কামাল হোসেন, বেনাপোল ॥ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলো এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারিতে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বসানো হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট। চলছে নিয়মিত তল্লাশি ও টহল।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, যশোর ৪৯ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তিনটি জেলার শার্শাসহ ১৬টি উপজেলা ও ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ৩১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছে ১১টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প। পাশাপাশি যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই অঞ্চলের নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এখানে ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসনের মধ্যে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রয়েছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

তবে প্রশাসন ও বিজিবির এই প্রস্তুতির পরও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে পুরোপুরি আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। অনেক ভোটারের মতে, সীমান্ত রক্ষায় বিজিবির অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, প্রভাব বিস্তার বা ভোটকেন্দ্র দখলের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু বিজিবির উপস্থিতি যথেষ্ট নাও হতে পারে।

শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামের ভোটার আশিষ সাহা বলেন, ভোট দিতে গিয়ে যেন ভয় কাজ না করে, সেই নিশ্চয়তা আমরা চাই। এজন্যে বিজিবির পাশাপাশি র‌্যাব বা অন্যান্য বিশেষ বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি দরকার।

এ বিষয়ে যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ ছিদ্দিকী বলেন, যশোর সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় আইনগত জটিলতার কারণে এখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন নেই। ফলে বিজিবিকেই প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আমাদের ব্যাটালিয়নের আওতায় তিনটি জেলার ১৬টি উপজেলায় ১১টি সংসদীয় আসনে ৩১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (আরএটি), কুইক রেসপন্স ফোর্স ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা বা অবৈধ কার্যক্রমের সুযোগ দেওয়া হবে না। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চেকপোস্ট ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।