দুই প্রজন্মের কণ্ঠে একটাই বার্তা ‘তারেক রহমানই বদলাবেন দেশ’

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠ সোমবার দুপুরে যেন এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। এই জনসভা কেবল একটি রাজনৈতিক আয়োজন ছিল না; বরং তা ছিল দুই প্রজন্মের মানুষের অনুভূতির এক বিরল মিলনমেলা।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই প্রথম যশোরে কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিলেন। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রবীণ থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের কাছে দিনটি ইতিহাসের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। প্রবীণরা মনে করছেন, এই সভা তাঁদের জীবনের ফেলে আসা রাজনীতির সোনালি দিনগুলোকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

সমাবেশে আসা বাঘারপাড়ার ভিটাবল্যা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল কাদের (৬৭) বলেন, আমি জিয়াউর রহমানকে কাছ থেকে দেখেছি। সেই সময়ের রাজনৈতিক উত্তাপ আজও মনে আছে। আজ তার ছেলে তারেক রহমানকে এখানে দেখতে এসে মনে হচ্ছে ইতিহাস আবার ফিরে এসেছে। এই বয়সে এমন একটি মুহূর্তের সাক্ষী হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।’ তাঁর মতে, জিয়াউর রহমানের সময়ের সেই রাজনৈতিক আবেগ আজও হৃদয়ে অমলিন, যা আজকের এই জনসভায় এসে আবার জীবন্ত হয়েছে।

ঝিকরগাছার আশেক আলী (৬২) বলেন, ‘আমরা জিয়াউর রহমানের সময় থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর সন্তানকে কাছ থেকে দেখার জন্য এই বয়সেও কষ্ট করে এখানে এসেছি।’

প্রবীণদের এই আবেগের সঙ্গে মিশে ছিল নবীন প্রজন্মের আশা ও প্রত্যাশা। যশোর শহরের কলেজছাত্র নাহিদ হাসান (২১) বলেন, ‘আমি রাজনৈতিকভাবে খুব একটা সক্রিয় নই, কিন্তু আজকের সভায় আসার প্রধান কারণ ছিল তারেক রহমানকে সামনাসামনি দেখা। তিনি তরুণদের জন্য কী বার্তা দেন, সেটিই শুনতে এসেছি।’

আরেক তরুণ সোহেল রানা (২৪) বলেন, ‘মাঠে তিল ধারণের জায়গা না পেয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েই তাঁর বক্তব্য শুনেছি। তারেক রহমানের কথা শুনে মনে হয়েছে, তিনি আমাদের মতো তরুণদের স্বপ্নের কথাই বলছেন। এটি আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।’

গৃহবধূ রেহানা বেগম (৪০) বলেন, ‘আমরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এসেছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো থাকায় আসতে সাহস পেয়েছি। অনেক দিন পর এমন বিশাল জনসভা দেখলাম। তারেক রহমানকে সরাসরি দেখতে পাব, এমনটা আগে ভাবিনি।’

ব্যবসায়ী আবু তালেব (৩০) বলেন, ‘এমন জনসভা বহুদিন দেখিনি। তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতিগুলো বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। আমার বিশ্বাস, সুযোগ পেলে তিনি দেশের জন্য ভালো কিছু করবেন।’