ইবিতে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত, প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ

0

ইবি সংবাদদাতা ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির অসহযোগিতায় নিয়োগ বোর্ড স্থগিত ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় নিয়োগ স্থগিতের কারণ জানানোসহ জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়োগ সম্পন্নের দাবি জানান তারা।

রোববার দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পাসের বটতলা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করেন তারা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। পরে বিকেল চারটা পর্যন্ত প্রশাসনিক অফিসের গেইটে তালা লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশিবির, খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইবি সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ জার্নালিজমের বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজটের অন্যতম প্রধান কারণ শিক্ষক সংকট। ৫ আগস্ট পরবর্তী অল্প পরিসরে হলেও শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রেখেছিল প্রশাসন। রোবাবার জার্নালিজম বিভাগের নিয়োগ বোর্ড থাকলেও কাদের ইন্ধনে প্রশাসন স্থগিত করা হয়েছে তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।

জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত শিশির বলেন, মাত্র দুইজন শিক্ষক কঠোর পরিশ্রম করে আমাদের বিভাগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা যখন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করলাম, আমাদের বিভাগে নতুন তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, ঠিক তখন নিয়োগ স্থগিত করা হলো।

ইতোমধ্যে একজন লেকচারার নিয়োগ দিয়ে তারা আমাদের থামিয়ে রেখেছে। ঠিক কোন কারণে নিয়োগ বন্ধ করছে সেগুলো আমরা জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানতে চাই। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।

সূত্র জানায়, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম। এর প্রেক্ষিতে বিভাগটিতে ২টি সহকারী অধ্যাপক পদে ও ১টি প্রভাষক পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

যথাসময়ে নিয়োগ পরীক্ষার বোর্ড শুরু করতে বিভাগটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ইবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. রশিদুজ্জামান ভিসিকে বলেন।

এরই প্রেক্ষিতে রোববার সকাল ১০টা থেকে বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিভাগীয় সভাপতি অনুপস্থিত থাকেন। এতে দুঘন্টা অপেক্ষা করার পর নিয়োগ স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। এ ঘটনায় চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা।

অনুপস্থিতির কারণ জানতে প্রফেসর ড. রশিদুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ইউট্যাবের সভাপতি প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, নিয়োগে অধিকতর স্বচ্ছতার জন্যে আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে সকল নিয়োগ বন্ধ রাখার জন্যে বলেছি। আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্তেই আজকের নিয়োগ বোর্ডে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হননি।

এ বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, নিয়োগ বোর্ডে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষককে আজই শোকজ করা হবে। স্থগিতকৃত নিয়োগ বোর্ড আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ইতোমধ্যে যেসব বোর্ডের সিডিউল নির্ধারিত হয়েছে তা চলমান থাকবে।

এরআগে গত ১৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন করে নিয়োগ না দেওয়ার দাবি জানিয়ে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাব।