যশোরে একজনের কারাদণ্ড অন্যজনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি 

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় জালিয়াতি ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

যশোর ইসলামিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব রেজাউল হক জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় তার কেন্দ্রে ৩৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষার হলরুমে বেলাল হোসেন খান নামে এক পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে চেহারার অমিল দেখে কক্ষ পরিদর্শকদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসংলগ্ন তথ্য দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

পরে তিনি স্বীকার করেন, তিনি জাহিদ হাসান নামে অন্য এক পরীক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। জাহিদ হাসান যশোরের মণিরামপুর উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের মশিউর রহমানের ছেলে।

আটক বেলাল হোসেন খান ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার আবুল হোসেন খানের ছেলে। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের অফিসার পদে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে কর্মরত থাকাকালীন ঋণ সংক্রান্ত একটি ঘটনায় জড়িয়ে তিনি চাকরিচ্যুত হন। এরপর যশোরের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে পড়াতেন। জাহিদ হাসানের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে কয়েক লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি প্রক্সি দিতে রাজি হন। তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমুল হাসান ফারুক জানান, পরীক্ষা চলাকালীন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে ইশতিয়াক আহমেদ নামে এক পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। বিকেলে কলেজের কলা ভবনের ১১৬ নম্বর কক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামিউল আলম তাকে হাতে-নাতে আটক করেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা জানান, সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে আটক ইশতিয়াক আহমেদকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামিউল আলম। অন্যদিকে, ইসলামিয়া বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রক্সি দেওয়ার অভিযোগে আটক বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।