যশোরের সেই সব আওয়ামী ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের আশ্রিত ক্যাডারসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৬ বছরের শাসন আমলে যশোরের এসব রাজনৈতিক ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সাধারণ মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিলো। অস্ত্রধারীদের হাতে বিভিন্ন এলাকার মানুষ জিম্মি ছিলো।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন- শৃঙ্খলা বাহিনী পদক্ষেপ না নিলে ঘাপটি মেরে থাকা ওই সব সন্ত্রাসী অঘটন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

তবে পুলিশ প্রশাসন বলছে, এবার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভি-ন্ন বাহিনীকে সাথে নিয়ে অভিযান চালানোর হবে।

একাধিক সূত্র জানায়, রাজনৈতিক শেল্টারের কারণে আওয়ামী লীগের বিগত ১৬ বছরের শাসন আমলে অসংখ্য অবৈধ অস্ত্রধারীর উত্থান ঘটে।

পাড়ায় মহল্লায় আওয়ামী লীগের একাধিক গ্রুপ আশ্রিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হাতে মানুষ জিম্মি হয়েছিলো। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং মাদক ব্যবসার দখলদারিত্বে অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিলো হরহামেশা।

যশোরে আলোচিত অস্ত্রধারী রাজনৈতিক ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন, সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাজহারুল ইসলাম মাজহার, ঝুমঝুমপুরের চান কসাইয়ের ছেলে জাভেদ, জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ও যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ জাহিদ হোসেন মিলন, আরবপুর এলাকার সাইদুজ্জামান বাবু ওরফে দাঁতাল বাবু, কারবালা এলাকার মোকসেদুর রহমান ভুট্টো, তার শ্যালক হাফিজুর রহমান, পার্টনার হাফিজুর রহমান, খড়কি এলাকার আক্তারুজ্জমান ডিকু, ষষ্ঠীতলার আশরাফুল কবির ওরফে শিকদার, ফরিদের ছেলে নিশান, শংকরপুরের সাবেক পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার ভাই গোলাম রাসুল ডাবলু, শংকরপুর পশু হাসপাতাল এলাকার কাজী তৌহিদের ছেলে ভাইপো রাকিব, চাঁচড়া রায়পাড়ার রনি, রেলগেট ডালমিল এলাকার কুদরত খান, ইমন ওরফে ভাইপো ইমন, বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার মৃত বাবুর ছেলে ট্যাটু সুমন, মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে চোর আল আমিন, বকচর এলাকার ট্যারা সুজন, সিটি কলেজ পাড়া এলাকার কসাই মনির, বারান্দী মোল্লাপাড়ার জাকির হোসেন রাজিব, উপশহরের মুনসুর, পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার কিলার কাজল, শেখহাটি এলাকার সাবেক ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল প্রমুখ।

এছাড়া আরও অসংখ্য অবৈধ অস্ত্রধারী রয়েছে যশোর শহর ও শহরতলীর বিভি-ন্ন স্থানে। বিগত আওয়ামী লীগের শাসন আমলে এসব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ছিলো মূর্তিমান আতঙ্ক।

আওয়ামী লীগের শাসন আমলে এসব সন্ত্রাসীর অধিকাংশ সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তরিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, বিএনপি নেতা গোলাম রেজা দুলু, মিজানুর রহমান খানের বাড়িতে বোমা হামলার সাথে জড়িত ছিলো।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও এসব সন্ত্রাসীর কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এখনো পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র মজুদ থাকায় সাধারণ মানুষ এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাদের কাছে থাকা অস্ত্র উদ্ধারের দাবি উঠেছে জোরেশোরে।

নইলে তারা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির জন্য ওই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

যশোর জেলা পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার জানান, অস্ত্র উদ্ধারে তাদের অভিযান চলমান রয়েছে।

তাছাড়া বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করবেন।