কলারোয়ায় শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে খাতা বাণিজ্যের অভিযোগ

0

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা॥ সাাতক্ষীরার কলারোয়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শিশু থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত খাতা বিক্রির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ অভিযোগ করেন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলায় ১২৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আর প্রিক্যাডেট ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৬টি। এর মধ্যে ১২৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ হাজার ও প্রিক্যাডেট ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ২ শ ৩৩ জন। মোট ২৯ হাজার ২ শ ৩৩ জন শিক্ষার্থী শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এ উপজেলায় লেখাপড়া করে।

অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের হাতের লেখা সুন্দর করার জন্যে কলারোয়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উপজেলার প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে খাতার ওপরে অক্ষর ও শব্দ লেখা সম্বলিত ভিক্টোরি প্রকাশনার বাংলা, ইংরেজি ও গণিত খাতা কেনার নির্দেশনা দেয়। এরপর প্রত্যেক স্কুলের শ্রেণি শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের খাতার ওপরে লেখা সম্বলিত ভিক্টোরি প্রকাশনার খাতা কেনার জন্যে বলেন।

পরে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের ভিক্টোরি প্রকাশনার খাতা কেনার জন্যে বললে তারা কলারোয়া বাজারের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে গেলে দেখা যায় জাহাঙ্গীর লাইব্রেরি ছাড়া অন্য কোন বইয়ের দোকানে এসব খাতা বিক্রি হচ্ছে না। অধিকাংশ অভিভাবক তাদের পছন্দের বইয়ের দোকান থেকে খাতা কিনতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাধ্যমে শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা জানতে পেরে কলারোয়া বই বিতানসহ কয়েকটি লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী ভিক্টোরি প্রকাশনা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কলারোয়ার জাহাঙ্গীর লাইব্রেরি ছাড়া অন্য কোন লাইব্রেরিতে বই বিক্রি করতে রাজি হয়নি। ফলে কলারোয়ার অন্য লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারীরা বাংলা, ইংরেজি ও গণিত খাতা বিক্রি করতে পারছেন না।

তাদের অভিযোগ, শিক্ষা অফিস ভিক্টোরি প্রকাশনার সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এইসব খাতা শিক্ষার্থীদের কেনার জন্যে পরামর্শ দিয়েছে। কারণ খাতার ওপরে লেখা সম্বলিত অন্য প্রকাশনার খাতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা ভিক্টোরি প্রকাশনার খাতা ছাড়া অন্য কোন প্রকাশনার খাতা কিনছেন না।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, তাদের পছন্দের লাইব্রেরি থেকে সারা বছর লেনদেন করেন। বছর শেষে তারা হালখাতা করে তাদের টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু এ বছর তারা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক খাতা কেনার ব্যাপারে বিপদে পড়েছেন।

তারা আরো বলেন, আগে তিনটি খাতা কিনতাম ৩০ টাকা দিয়ে। এখন সেই তিনটি খাতা কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকা দিয়ে।

শিক্ষার্থী মাহিমা, রোজিনা, সোহেল, হৃদয়,আকলিমা, ছন্দাসহ কয়েকজন বলে, আগে আমরা ৩০ টাকা দিয়ে তিনটি খাতা কিনতে পারতাম। আর এখন ১২০ টাকা দিয়ে তিনটি খাতা কিনতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

কলারোয়া জাহাঙ্গীর লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী ভিক্টোরি প্রকাশনার সাথে যোগাযোগ করে খাতা নিয়ে এসে বিক্রি করা হচ্ছে।

কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মুজিবর রহমান জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসের স্যারেরা খাতার ওপরের লাইন লেখা সম্বলিত খাতা কেনার জন্যে বলেছেন। তবে ভিক্টোরি প্রকাশানার খাতা কেনার কথা বলেননি।

উপজেলা প্রথামকি শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, হাতের লেখা ভালো করার জন্যে খাতার ওপরে লেখা সম্বলিত বাংলা, ইংরেজি ও অংক খাতা কিনতে বলা হয়েছে। তবে ভিক্টোরি প্রকাশনার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি ভিক্টোরি প্রকাশনার সাথে কোন চুক্তি নেই। যারা বলছেন তা সঠিক নয়। ৩০ টাকার খাতা ১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোন প্রকাশনার খাতা কিনতে পারবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।