বাঘারপাড়ার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মারধর ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের বাঘারপাড়া থানা পুলিশের এসআই প্রসেনজিৎ কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলার ভিকটিম কিশোরী শাহরিয়া মুন পাখীকে উদ্ধার করতে না পেরে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্র বায়েজিদকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বায়েজিদ প্রধান আসামি আহম্মেদ অন্তরের ছোট ভাই। এছাড়া ওই পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী আন্না খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে আন্না খাতুনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছোট ছেলে বায়েজিদ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আন্না খাতুনের বড় ছেলে আহম্মেদ অন্তরের সাথে একই গ্রামের তসলিম আলম লিতুনেরর স্কুল পড়ুয়া মেয়ে শাহরিয়া মুন পাখীর প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে কিশোরী নিজেই বিয়ের দাবিতে আহম্মেদ অন্তরের বাড়িতে চলে আসে। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সালিশের মাধ্যমে কিশোরীকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ৩ ডিসেম্বর ওই কিশোরী আবার নিজ বাড়ি পালিয়ে যায়।

একই সময় আহম্মেদ অন্তরও বাড়ি থেকে চলে যায়। সেই থেকে আহম্মেদ অন্তরের সাথে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। এ ঘটনার পর তসলিম আলম লিতুন তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে শাহরিয়া মুন পাখীকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে আহম্মেদ অন্তর, তার পিতা রবিউল ইসলাম ও মা আন্না খাতুনের বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন।

আন্না খাতুনের অভিযোগ, এই মামলায় পুলিশ তার স্বামীকে আটক করায় জেলও খেটেছেন। বর্তমানে তার স্বামী জামিনে আছেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা এসআই প্রসেনজিৎ কুমার মন্ডল প্রতিনিয়ত তাদের বাড়িতে হানা দিচ্ছেন। বাড়িতে যাকে পাচ্ছেন তাকেই হুমকি দিচ্ছেন। মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ওপর নিয়মিত মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার গভীর রাতে এসআই এসআই প্রসেনজিৎ কুমার মন্ডলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আন্না খাতুনদের বাড়িতে আসে। বাড়িতে ছিলো তার ছোট ছেলে বায়েজিদ। পুলিশ ঘুম থেকে ডেকে তুলে আহম্মেদ অন্তরের খোঁজ জানতে চায়। কিন্তু বায়েজিদ বড় ভাইয়ের খোঁজ দিতে না পারায় এসআই প্রসেনজিৎ কুমার মন্ডল ও তার সাথে আসা পুলিশের অন্য সদস্যরা তাকে বেদম মারপিট করেন।

ওই ঘটনার পর বর্তমানে পুরো পরিবার পুলিশি আতঙ্কে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করা হয়। এ বিষয়ে তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আন্না খাতুন, তার স্বামী রবিউল ইসলাম ও ছোট ছেলে বায়জিদ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এসআই প্রসেনজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। হয়তো শরীরে লিপস্টিক জাতীয় রঙ মেখে মারধরের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ছবি তুলে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।