চৌগাছায় গ্রাহকের কিস্তির ২ লাখ টাকা তুলে অফিসে ফেরেননি এনজিও কর্মী সুজন বালা

0

স্টাফ রিপোর্টার, চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় গ্রাহকদের ২ লাখ টাকা নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন সমিতির কর্মী সুজন বালা। সোমবার (২৩ জুন) বিভিন্ন গ্রাম থেকে ‘বাসা ফাউন্ডেশন’ নামে ওই বেসরকারি সংস্থার গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তির ২ লাখ টাকা তুলে তিনি আর অফিসে ফেরেননি।

থানা ও এনজিও সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের ইছাপুর বটতলা সংলগ্ন মহিউদ্দিনের বাড়ির একটি অংশ ভাড়া নিয়ে ‘বাসা ফাউন্ডেশন’ নামক একটি এনজিও অফিস খুলে বসে। প্রায় ৮/৯ বছর ধরে এনজিওটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঋণ দিয়ে তা নিয়মিত ভাবে আদায় করে আসছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে ওই সমিতির ক্রেডিট অফিসার সুজন বালা (২৮) সমিতির কিস্তি আদায়ে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে যান এবং ২ লাখ টাকা তুলে তিনি আর অফিসে ফিরে আসেননি।

এ সময় সমিতির ব্যবস্থাপক সবুজ বালার ব্যবহৃত ০১৮৭৬৬৯৪৪৬৯ নাম্বার মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। একপর্যায়ে এনজিও কর্তৃপক্ষ চৌগাছা থানায় একটি জিডি করেন। নিখোঁজ এনজিও কর্মী সুজন বালা গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার উত্তর ধীরাইল গ্রামের বাবা শান্ত বালা ও মা মায়া রানীর ছেলে।

এ বিষয়ে বাসা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন,‘তার নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে আমরা ভীষণভাবে চিন্তিত। কিস্তি আদায়ে গিয়ে সন্ধ্যায় ফিরে না আসায় আমরা সকলেই তাকে খুঁজতে বের হই। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো খবর পাওয়া যায়নি। থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি এবং পরিবারের সাথে যোগযোগ করা হয়েছে। তিনি নিজ বাড়িতেও যায়নি বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ সুজন বালার সন্ধান মেলেনি।

চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে চৌগাছায়
শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার,চৌগাছা (যশোর) ॥ নিরাপদ সড়কের দাবিতে চৌগাছায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকের ব্যানারে বুধবার দুপুরে চৌগাছার পুরাতন কোটচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে এই মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান ও বক্তব্য দেওয়া হয়। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের জন্য বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন হাতে নিয়ে সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থী সিদরাতুল মুনতাহা তুবা, আফিয়া সুলতানা বলেন, সড়কে আমরা আর প্রাণ ঝরতে দেখতে চাই না। আমার বোন আফিয়া ইসলাম মৃধা যে ভাবে এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাস ট্রাক চালক এরা চরম বেপরোয়া। তাদের কারণে সড়কে একের পার এক প্রাণ ঝরছে।
উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র ইয়াছিন ও হুরাইরা বীন লাম, আহ্বায়ক রাশিদুল ইসলাম রিতম বলেন, চৌগাছায় একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং ও বাস ট্রাকের চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালনা। আমরা এই মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, যে কারণে চৌগাছায় দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে এই সব ব্যাপারে আপনারা আজই পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। অন্যথায় আফিয়া ইসলামের মত অনেকেই এই পৃথিবী ছেড়ে অশকালেই চলে যেতে হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ হতে অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আফিয়া ইসলাম মৃধা পিতা মহিদুল ইসলামের মোটরসাইকেলে চড়ে চৌগাছা বাজারে আসছিলেন। বাসের ধাক্কায় আফিয়া ইসলাম সড়কের ওপর ছিটকে পড়লে তার মাথার ওপর দিয়ে চালক বাস চালিয়ে চলে যায়।