ভেকুটিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে যুবককে গণপিটুনি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়ার কলোনির পাড়ায় এবার পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম মিঠু (৩৫) নামে এক যুবককে ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে। তাকে আটক করতে গিয়ে আহত হয়েছেন পুলিশের একজন কর্মকর্তা। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন কোতয়ালি থানায় এসে চড়াও হন এবং তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

আটক তরিকুল ইসলাম মিঠু চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা মন্ডলপাড়ার মৃত ফজের আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলার ভেকুটিয়া কলোনি পাড়ার জনৈক শহিদ আলমের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এয়ারপোর্ট এলাকার টেকআট রেস্টুরেন্টে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করেন।

ওই শিশুর নানির অভিযোগ, তারা এবং অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম মিঠু একই মালিকের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। সেই সুবাদে তার নাতি প্রায় সময় অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম মিঠুর বাসায় আসা যাওয়া করতো।

গত শনিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে তিনি নিজ বাসায় নামাজ আদায় করছিলেন। ওই সময় অভিযুক্ত মিঠু বাড়িওয়ালার রান্নাঘরের ভেতর বসে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখছিলেন। তখন তার নাতি ওই রান্নাঘরে গেলে মিঠু তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সে কান্নাকাটি করতে থাকে। নামাজ শেষে জানালা দিয়ে তিনি ঘটনাটি দেখতে পান। সাথে সাথে তিনি চিৎকার শুরু করলে মিঠু রান্নাঘর থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে আটক করেন। তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম মিঠুকে হেফাজতে নেয়।

কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম মিঠুকে হেফাজতে নিতে গিয়ে হামলায় তাদের এসআই সাইফুল ইসলাম আহত হয়েছেন।

এদিকে আটক তরিকুল ইসলাম মিঠুকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দিয়ে রাত ১২টার দিকে কোতয়ালি থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন থানায় তার ওপর চড়াও হন এবং ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পর্যায়ে পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয়।

পুলিশ জানায়, আটক তরিকুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পর্নোগ্রাফি আইনে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।