পালবাড়ী থেকে মণিহার পর্যন্ত মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণে স্থায়ীত্বের ওপর গুরুত্ব স্থানীয়দের

অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সড়ক বিভাগের

0

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ যশোরের পালবাড়ী থেকে শিক্ষা বোর্ড হয়ে মণিহার পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়কের ৪ কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণে অংশীজনদের নিয়ে গতকাল এক সভা করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ যশোর।

সভায় অংশীজন হিসেবে মতামত ব্যক্তকালে স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, যশোরের প্রয়োজনে এই মহাসড়ক দরকার, তবে তা হতে হবে সুদূর প্রসারী ও স্থায়ী পরিকল্পনায়। এই রাস্তা মাত্র কয়েক বছর আগেও করা হয়েছিল। কিন্তু টেকেনি।

যশোর জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪ দশমিক ৪৪ কিলোমিটারের এই মহাসড়কটির নির্মাণে ৪৪২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে ২০২২ সালে প্রস্তাবনা পাঠায় সড়ক বিভাগ। সড়কটি বর্তমানে ৭ দশমিক ৩০ মিটার প্রশস্ত রয়েছে। এটিকে ৪ লেনে উন্নীত করলে শহরের চারপাশই লেনের রিং রোড উন্নীত হবে। দুটি ৩০ মিটার দৈর্ঘের ব্রিজ ৮১ মিটারে উন্নীত হবে প্রতিটি নতুনভাবে।

এছাড়া বর্তমান উচ্চতার চেয়ে আরও ৪ মিটার বাড়বে। প্রকল্পের আওতায় ৬টি বক্স কালভার্ট তৈরি, বাস বে নির্মাণ, ইন্টার সেকশন, সার্ভিস লেন নির্মাণ, ড্রেন নির্মাণ, আর সিসি টো ওয়াল নির্মাণ, ড্রেন কাম ফুটপাত নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা রয়েছে। ২০২২ সালে সড়ক বিভাগ প্রস্তাবনা আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠালে বিভিন্ন পর্যারে যাচাই বাছাই শেষে অংশীজনের মতামত নিয়ে সভার আয়োজনের নির্দেশনা দেয়। সে প্রেক্ষিতে এ সভার আয়োজন।

সভায় সড়ক বিভাগের প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনাকালে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তাদের মতে সড়ক বিভাগের বেশিরভাগ প্রকল্প হয় প্রকল্পের স্বার্থে, ব্যয় হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ কিন্তু জনআকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ঘটে না। বর্তমান প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ কারণে প্রকল্পটি আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। তাদের দাবি- এটি যেনো ভবিষ্যতের চিন্তা করে এবং শত বছরের টেকসই রূপায়িত করা হয়। নতুবা একই রাস্তা মাত্র কয়েক বছর আগেও করা হয়েছিল। কিন্তু তা ছিল জনগণের কল্যাণের চেয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। এর থেকে রাষ্ট্রকে বাঁচানোর উপায় চান অংশীজনরা।

অংশীজনদের অভিযোগ, এই মহাসড়কের অংশে ২টি ব্রিজ রয়েছে যা মাত্র কয়েক বছর আগেই তৈরি, ওই দুটি ব্রিজ আবার নির্মাণ করতে হবে। অথচ ব্রিজ তৈরির ক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটিএ এর নির্দেশনা না মানায় যশোরেই ৯টি ব্রিজের কাজের উপর হাইকোর্টের স্থাগিতাদেশ রয়েছে বলেও একই সভায় সমালোচনা করা হয় সড়ক বিভাগকে। সব বক্তাই এ ধরণের ব্যয়বহুল অকার্যকর প্রস্তাবনা থেকে সরে এসে প্রকৃতভাবেই যশোরের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের টাকা নয়ছয় না করারর পরামর্শও দেন অংশীজনেরা।

সভায় বিস্তারিত আলোচনা-সমালোচনার পরও সকলে ঐক্যমত হন যে, যশোরের প্রয়োজনে এই মহাসড়ক দরকার। তবে তা হতে হবে দৃঢ় পরিকল্পনায় ও সুদূর প্রসারি স্থায়ীত্ব নিয়ে।

সভায় বক্তব্যদেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান, বিএনপির জেলা সভাপতি ও পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা জামায়াতের আমীর গোলাম রসুল, সড়ক বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া, যশোর চেম্বার অব কর্মার্সের সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, দৈনিক লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু প্রমুখ।