গড়াই নদীতে কুমির!

0

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গড়াই নদীতে মিঠাপানির কুমিরের দেখা মিলেছে। প্রায় প্রতিদিন একটি নয়, দুইটি নয় একাধিক কুমির ভেসে বেড়াচ্ছে। বড় বড় এসব কুমির দেখতে আশপাশের গ্রামের মানুষ ভীড় করছেন।

সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনবার কুমির দেখতে পায় নদীপাড়ের মানুষ। শৈলকুপার হাকিমপুর ইউনিয়নের খুলুমবাড়িয়া অংশে এসব কুমির ভেসে বেড়াচ্ছে। এতে মৎস্যজীবীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটালেও পরিবেশবিদরা বলছেন ভালো পরিবেশ পাওয়ায় হয়তো গড়াই নদীতে কুমির বংশ বিস্তারসহ এখানে বসবাস করছে।

খুলুমবাড়িয়া গ্রামের আসালত মোল্লাহ জানান, সোমবার সকালে খুলুমবাড়ী ও পাংশার কেওয়া গ্রামের অংশে গড়াই নদীতে একটি কুমির ভেসে ওঠে। কুমির আসার খবর পেয়ে বিভিন্ন এলাকায় ছেলে- মেয়ে ও বয়স্ক ব্যক্তিরা নদীপাড়ে ভীড় জমাতে থাকেন। অনেককে ড্রোন ক্যামেরা নিয়ে এসে ভিডিও করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় মেঘমালা রানী জানান, অনেক দিন ধরে কুমির দেখার সংবাদ শুনছি। তাই আজ কুমির দেখতে এসেছি। তবে চোখে দেখতে না পারলেও ড্রোন ক্যামেরায় দেখেছি।

মাদলা গ্রামের আওলাদ হোসেন জানান, প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে এখানে কুমিরগুলো দেখা যাচ্ছে। বড় কুমির ছাড়াও তার সঙ্গে ছোট ছোট বাচ্চাও আছে।

তিনি বলেন, নদীর এই স্থানে প্রচুর মাছ হয়। এ কারণে হয়তো কুমিরগুলো এখানে স্থায়ীভাবে ঘাটি গেড়েছে। তিনি বলেন, গড়াই নদীতে প্রতিদিন শ শ মানুষ গোসল করেন ও মাছ ধরেন। এতে মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে।

ঝিনাইদহ বন বিভাগের জোনাল অফিসার খোন্দকার গিয়াস উদ্দীন মুকুল বলেন, গড়াই নদীতে কুমির দেখার খবরটি তিনিও জানতে পেয়েছেন। এটা পরিবেশের জন্যে একটা ভালো খবর। নদীতে কুমির থাকবে, মাছ থাকবে জীব বৈচিত্রের আরো অনেক কিছুই থাকবে। এটা আগে ছিল। আমরা আশা করি নদীর আগের রুপ ফিরে আসুক।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে হয়তো কুমিরগুলো এসেছিল। কিন্তু উপযুক্ত পরিবশে পাওয়ায় তারা আরা ফিরে যায়নি। স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। শুনছি কুমির বাচ্চাও দিয়েছে। তিনি নদীপাড়ের মানুষকে কুৃমিরগুলোকে আঘাত না করার পরামর্শ দেন।