আওয়ামীপন্থী শিক্ষককে প্রো-ভিসি নিয়োগ দিলে যবিপ্রবি অচল করার হুমকি সাধারণ শিক্ষার্থীদের,প্রেস ক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আওয়ামীপন্থী শিক্ষককে প্রো-ভিসি বানানোর চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাব যশোরের আরএম সাইফুল আলম মুকুল মিলনায়তনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সাব্বির।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসর হিসেবে পরিচিত পতিত শেখ হাসিনা সরকারের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের স্বামী সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর এফ এম সাইফুল ইসলামকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রো-ভিসি বানানোর চেষ্টা চলছে বলে আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম মারফত জানতে পেরেছি। তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের নেতা এবং ক্রপ বোটানি অ্যান্ড টি প্রোডাকশন টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক। জুলাই বিপ্লবে শত সহস্র শহীদের রক্তে অর্জিত এই বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিস্টরা ফিরে আসবে তা মেনে নেয়া যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে রাতের ভোটের মূল কারিগর ছিলেন। যার পুরস্কারস্বরূপ পরবর্তীতে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরি শেষে আবারো পুরস্কার হিসেবে শেখ হাসিনা তাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেন। জুলাই বিপ্লবে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেই গত বছরের ৮ অক্টোবর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমকে পিএসসির সদস্য থেকে বরখাস্ত করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আওয়ামী শাসন আমলে ২০১২ সালে স্ত্রী ড. নাজমানারা খানুমের লবিংয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ড. সাইফুল। সিকৃবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল থেকে দুই দুইবার সিকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য (২০১৪-১৬ ও ২০২২-২৪ সাল) নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়াও ২০১৫-২০১৭ সালে কৃষি অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করেন ড. সাইফুল।
এমনকী তার আপন ভায়রাভাই ডক্টর কে এম দেলোয়ার হোসেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায়। জুলাই ২৪ বিপ্লব নিয়ে কটূক্তিসহ তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা বলেন, উপ-উপাচার্য হিসেবে ডক্টর সাইফুল ইসলাম এর মত স্বৈরাচারের দোসরকে আমরা কখনোই মেনে নেবো না। স্বৈরাচারের দোসর ড. সাইফুলকে যবিপ্রবির প্রো ভিসি নিয়োগ করা হলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ড. সাইফুল ইসলামের মতো একজন স্বৈরাচারের দোসরকে নিয়োগ দেওয়া মানে দুই হাজার শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করা। যারা এই আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করতে চায় তারা যেই হোক না কেন, শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে তাদেরকে রুখে দেবে বলেও সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল খালেক, সুমন আলী, হাবিবুর রহমান ইমরান,হাবিব কানন, ইসমাইল হোসেন ও মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।