নতুন পুলিশ পুরনো অপরাধী, যশোরে বাড়ছে অপরাধ

0

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ যশোরে পুলিশ প্রশাসনে নতুন মুখের ছড়াছড়ি। এই জেলায় প্রথম এসেছেন এমন পুলিশ অফিসারের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। নতুনদের দলে এমন অফিসারও আছেন যারা খুলনা রেঞ্জেই কখনো চাকরি করেননি। আগে যারা যশোরে ছিলেন তদের বেশিরভাগই বদলি হয়েছেন। চেনা মুখ নেই বললেই চলে। নতুন এসব কর্মকর্তা চেনেন না রাস্তা-ঘাট, নেই তাদের সোর্স। যশোরের ইতিহাস ও ফ্যাসিস্টদের অত্যাচারের চিত্রও তাদের অজানা। পুলিশে নতুন মুখের সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। ফলে জেলায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। প্রতিরাতেই শহরে ঘটছে চাকুবাজির ঘটনা।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের অন্যান্য স্থানের মতো যশোরেও পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে থানার অফিসার ইনচার্জ, এসআই সব পদেই এসেছে নতুন মুখ। কোনো কোনো থানায় পুরনো অফিসারদের একজনও নেই। যারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দমন পীড়নে কাজ করে গেছেন। মিথ্যা মামলায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরকে জেলে ঢুকিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই সব পুলিশ কর্মকর্তার নামে মামলা হয়েছে। যাদের মধ্যে আলোচিত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমানও আছেন। বাকি অফিসারদের বদলি করা হয়েছে। থানায় থানায় এখন নুতন মুখ। যশোর কোতয়ালি থানার ওসিসহ কর্মরত প্রায় সকল কর্মকর্তা এখন নুতন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক স্বীকার করেছেন, নতুনদের কাছে যশোর অচেনা। তাদেরকে যশোরের অলিগলি চিনতে, সোর্স তৈরি করতে এবং অপরাধীদের সম্পর্কে জানতে অন্তত ৬ মাস তো সময় লাগবে। পুরনোদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেলে সংকট তৈরি হতো না। বলা যায়, রাস্তা চেনা, মানুষ চেনা, সোর্স তেরি যাবতীয় কাজই প্রথম থেকে করতে হচ্ছে। ফলে পদে পদে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সমস্যা হলেও পুলিশকে কাজ করতে হচ্ছে আরও আন্তরিকতার সাথে। সাথে হারানো ইমেজ ফেরার চেষ্টাও করতে হচ্ছে। কর্মকর্তাদের নতুনের সুযোগে অপরাধীদের তৎপরতা বেড়ে যেতে পারে। যার আলামতও পাওয়া যাচ্ছে।
যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশের ওসির দায়িত্বে থাকা ইনসপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে তার থানায় একজন পুরনো বাদে বাকি অধস্তন পুলিশ কর্মকর্তারা সবাই নতুন। আবার কয়েকজন শিক্ষানবিশ উপ-পরিদর্শক যোগদান করেছেন। যশোরের মতো বড় ও ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় নতুনদের সমস্যা একটু হচ্ছেই। আশা করা হচ্ছে কয়েক মাসের মধ্যে নতুনরা যশোরে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন।
পুলিশের এই সংকটে অপরাধীরা রীতিমত ‘কাছা মেরে’ নেমেছে। কয়েকটি বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে গেছে। প্রতিরাতেই শহরে কেউ না কেউ ছুরিকাহত হচ্ছেন। খুনের ঘটনাও ঘটছে। ছিনতাই-চুরির প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুর-ই-আলম সিদ্দিকী স্বীকার করেন, নতুনদের কাজ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই তারা যশোরে ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন।