অতিউৎফুল্ল রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, আজ যখন জনগণের ভোটের অধিকারের কথা বলি তখন সরকারের কারোও কারোও খারাপ লাগে। কিছু কিছু রাজনৈতিক দলকে অতিউৎফুল্ল দেখা যাচ্ছে। গত ১৬ বছরে তাদের রাজপথে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু জানাজার নামাজের কাতারে সবার আগে মাইক ধরে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। আমি একটি কথা পরিষ্কার বলতে চাই এই বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম সকলের। এখানে ধর্ম বর্ণের কোন বিভেদ করার সুযোগ নেই। তাই বিএনপির অবস্থান হচ্ছে মসজিদ, মন্দিরসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপসানালয় বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। এগুলো ব্যবহার করে কেউ যেন রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে সে ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে।
বুধবার সদর উপজেলা লেবুতলা ইউনিয়ন কৃষক দল আয়োজিত কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। লেবুতলা মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। সভায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, আমাদের অপেক্ষা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য। গেল ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল অর্šÍবর্তী সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন। আজ তারা সংস্কারের কথা বলছে, আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এই সংস্কারের কথা অনেক আগেই আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে সংস্কার কে করবে? আপনি তো অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার, সংস্কার করতে পারেন না। আপনি তো অনির্বাচিত সরকার। অনির্বাচিত সরকারের তো জনসমর্থন থাকে না। সংস্কার তাকেই করতে হবে যার পেছনে জনগণের সমর্থন রয়েছে। তাই আমার চাই দ্রুততম সময়ের মধ্য নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচিত সরকার দেশ মেরামতের জন্য যে সংস্কারের প্রয়োজন সেই সংস্কার পরিচালনা করবেন।
আমাদের অপেক্ষা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য। গেল ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল অর্šÍবর্তী সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন। আজ তারা সংস্কারের কথা বলছে, আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এই সংস্কারের কথা অনেক আগেই আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে সংস্কার কে করবে? আপনি তো অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার, সংস্কার করতে পারেন না। আপনি তো অনির্বাচিত সরকার। অনির্বাচিত সরকারের তো জনসমর্থন থাকে না। সংস্কার তাকেই করতে হবে যার পেছনে জনগণের সমর্থন রয়েছে। তাই আমার চাই দ্রুততম সময়ের মধ্য নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচিত সরকার দেশ মেরামতের জন্য যে সংস্কারের প্রয়োজন সেই সংস্কার পরিচালনা করবেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও দেশে অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষি। বিগত ১৬ বছরে সেই কৃষকরা পদে পদে বঞ্চিত ছিল। কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে সার বীজ পায়নি। বিদ্যুতের উচ্চ মূল্যের কারণে জমিতে সেচ দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে। কাগজে কলমে সারের মূল্য ২৭ টাকা দেখানো হলেও বাস্তাবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে সার কিনতে হয়েছে। একদিকে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যা মূল্য পায়নি। অন্যদিকে সাধারণ মধ্যবিত্তের মানুষ উচ্চ মূল্যের কারণে তরকারি কিনতে পারেনি। আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের মুনাফা লুটে নিয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মানুষ ভোট না দিলেও হেলিকপ্টরে উড়ে এসে এমপি হয়েছিলেন। আবার লেবুতলা ইউনিয়নের মানুষ ভোট না দিলেও চেয়ারম্যান সেজে বসেছিলেন। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বিগত ১৬ বছর লড়াই করেছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই লড়াই বিএনপি এককভাবে শুরু করেছিল। তিনি বলেছিলেন দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও। দুরদৃষ্টি সম্পন্ন নেত্রী বুঝেছিলেন শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন প্রতিনিয়ত প্রতি মুহুর্ত এই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আমাদের হাত থেকে বেরিয়ে যেতে থাকবে। জনগণের শক্তির বাইরে অস্ত্রের শক্তির ওপর নির্ভর করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গিয়ে তার আজ্ঞাবহ র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি পুলিশ দিয়ে আমাদের সাত শতাধিক সহযোদ্ধাকে গুম করেছে। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সারা বাংলাদেশে পাঁচ হাজারে অধিক সহকর্মী জীবন দিয়েছে। এই যশোরে আমার শতাধিক রাজনীতিক সহকর্মী জীবন দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান কৃষকদের নিয়ে এক ঝাঁক পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যা মূল্য নিশ্চিত করা হবে। পচনশীল পণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণের কথা বলেছেন। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের মাধ্যমে তরুণদের যথাযথ শিক্ষিত করা হবে। শিক্ষা জীবন শেষে চাকুরী না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ভাতা প্রদানের কথা বলেছেন।
লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মনোয়ারুল ইসলাম হ্যাপির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন, লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দেলু, সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান বিশ্বাস, কৃষক জহুরুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ।