মেয়ের মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পিতা-মাতা

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ পিতা ভ্যানচালক। মা সেলাই মেশিন চালিয়ে কোন মতে চালান সংসার।এনজির ঋণ ও মায়ের সামান্য গহনা বন্ধন রেখে পড়ালেখার খরচ বহন করেন। এ দৈন্য তাদের মেয়ে অদম্য মেধাবী আরিফা আক্তারকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি বরিশাল সরকারি মেডিকেল কলেজে এবার ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় পিতা-মাসহ পরিবারের সবার মাঝে বইছে আনন্দের ধারা। কিন্তু তার পিতা ও মা মেয়ের ভর্তি নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ইউনিয়নের হতদরিদ্র ভ্যানচালক শেখ আসাদুজ্জামান ও গৃহিনী হামিমা আক্তার হিমার বড় মেয়ে অদম্য মেধাবী এই আরিফা আক্তার। পিতা- মায়ের স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এসে আর্থিক অনটন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাড়া-প্রতিবেশীরা তাই চাইছেন তাদের এ বাধা দূর হোক। এজন্যে দরকার কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা।
আরিফা পড়ালেখায় ভালো হওয়ায় হতদরিদ্র পিতা প্রতিদিন নিজের ভ্যান চালিয়ে কচুয়া থেকে বাগেরহাট সরকারি গার্লস স্কুলে নিয়ে আসতেন তাকে। ছুটি শেষে আবারো ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে যেতেন । প্রতিদিন প্রায় ৩০ কিলোমিটার পিতার ভ্যানে আসা যাওয়া করতেন আরিফা। এভাবে বেড়ে ওঠা আরিফা এখন স্বপ্ন ছোঁয়ার টিকিট পেয়েছেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের ট্রেনে ওঠাটাই এখন দায়। হতদরিদ্র ভ্যানচালক শেখ আসাদুজ্জামান বলেন, আমি নিজের নামটাও লিখতে পারি না। যখন আমার এই মেয়ে তার মায়ের গর্ভে তখন হাসপাতালে ডাক্তারের কাছে আমি সই দিতে পারিনি। তখন থেকেই আমি স্বপ্ন দেখেছি আমার যত কষ্টই হোক আমি আমার মেয়েকে ডাক্তার বানাবো। আল্লাহ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। কিন্তু তার বাস্তবায়ন নিয়ে সমস্যায় পড়েছি।
আরিফার মা হামিমা আক্তার হিমা বলেন,পড়ার প্রতি মেয়ের প্রচন্ড ঝোঁকের কারণেই অর্থকষ্টের মধ্যেও তার পড়াশুনা বন্ধ করিনি। এখন এই খুশির মাঝেও ভর্তি নিয়ে চিন্তিত। জানিনা কী আছে আমাদের কপালে?