সরকার বদল হলেও সক্রিয় রয়েছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ।। যশোরে নিত্যপণ্যের বাজার এখনও স্বাভাবিক হয়নি। গত ৫ আগস্ট সরকার বদল হলেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রয়ে গেছে সক্রিয়। ৫ আগস্টের আগেও যেসব পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছিল তা এখনও বহাল আছে। ভোক্তারা বলছেন সাধারণ মানুষকে দুর্দশা থেকে মুক্তি দিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শুক্রবার যশোর বড় বাজার কাঠেরপুলে দেখা যায়, বিক্রেতারা গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেও এখানকার মাংস ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গরুর মাংসের কেজি বাড়তি দামে ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছিলেন। ভোক্তাদের অভিমত মাংস বিক্রেতারা একজোট হয়ে সেই দর এখনও বহাল রেখেছেন।
৫ আগস্টের আগে বড় বাজারে খামারের মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছিল প্রতি পিস ১২ টাকা। সেই দর এখনও বহাল রয়েছে। তবে কিছু খামারির ডিম সাড়ে ১২ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তারা বলছেন খামার মালিকরা ডিমের দাম বাড়িয়ে রেখে নি¤œবিত্তদের বেকায়দায় ফেলেছেন।
বড় বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১০ টাকা। ৫ আগস্টের আগেও এই দামেই ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। বাজারে পেঁয়াজের ঘাটতি না থাকলেও ব্যবসায়ীরা আগের দামেই পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন।
বাজারে চালের দামেও খুব একটা হেরফের হয়নি। শুক্রবার বড় বাজার চালবাজারে বাংলামতি চাল মানভেদে ৮৪ থেকে ৮৬ টাকা, মিনিকেট চাল ৬০ থেকে ৬৪ টাকা, কাজললতা চাল ৬২ টাকা, বিআর-৪৯ চাল ৫৬ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা, বিআর-৬৩ চাল ৬৪ থেকে ৬৮ টাকা ও নূরজাহান চাল ৪৮ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ৫ আগস্টের আগেও চালের বাজার প্রায় এরকমই ছিল। যশোর চাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার বিশ^াস খুব শিগগিরই চালের দাম কমার ব্যাপারে খুব একটা আশ^াস দিতে পারেননি।
এদিকে বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম কমে আসলেও এখনও কয়েকটির ক্ষেত্রে দাম এখনও অনেক বেশি। শুক্রবার বড় বাজারে খুচরা সবজি বিক্রেতা নাসির আলী জানান, তিনি ভালোমানের উচ্ছে ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, বেগুন ৯০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা ও মুখিকচু ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। তবে এদিন অন্যান্য সবজি কিছুটা কম দামে বিক্রি হয়েছে। বরবটির কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা, করোলা ৫০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, কুশি ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা ও পটল ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
শুক্রবার বড় বাজারে ক্রেতা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার একজন চাকরিজীবী জনৈক শামসুল হক এ প্রতিবেদককে জানান, বিগত শেখ হাসিনার সরকারের সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। এসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ওপর বিগত সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তারা নিজেদের ইচ্ছেমত পণ্যের দাম বাড়াতেন। ওই সরকারের পতনের পরও সেই অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় আছে। তাদের সেই বাড়তি দামেই এখনও অনেক পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তিনি আশা করেন বাজার নিয়ন্ত্রণে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।