সর্বোচ্চ তাপমাত্রার দ্বিতীয় দিন চুয়াডাঙ্গায় দাবদাহে বিপাকে নি¤œ আয়ের মানুষ

0

রিফাত রহমান,চুয়াডাঙ্গা ॥ চুয়াডাঙ্গায় তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। বৈশাখের প্রথম দিন থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হলে তা এখন তীব্র তাপপ্রবাহের রূপ নিয়েছে।  বুধবার ছিল এ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান,বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৭ শতাংশ যা এ মৌসুমের চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এদিন বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২২ শতাংশ এবং দুপুর ১২টায় রেকর্ড করা হয় ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩১ শতাংশ। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে। নিম্ন ও খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে বিপাকে। বাইরে রোদের তীব্র তাপ ও অসহ্য গরমে মানুষ এক প্রকার গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। অতি প্রয়োজন কেউ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও শ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে কাজের তাগিদে বাইরে বের হচ্ছেন।
শহরের কোর্ট এলাকায় ভাতের হোটেল ব্যবসায়ী রবিউল জানান, প্রচন্ড গরমে শহরের লোকজন আসছে না। সে কারণে তার ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। বিক্রি নেই বললেই চলে। রিক্সাওয়ালা আব্দুর রশিদ বলেন, রোজার মাসের শেষের দিক থেকে গরমে তার রোজগার কমতে শুরু করে। মানুষজন শহরে কম আসায় রিক্সা ভাড়া কমে গেছে। কোন রকম ঈদ পার হলেও ভাল রোজগার না হওয়ায় পরিবার -পরিজন নিয়ে অনেকটা না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা এ জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় কৃষকদের উদ্দ্যেশে এক পরামর্শে জানান, তাপ প্রবাহ থেকে ধান রক্ষার জন্যে জমিতে সর্বদা ৫-৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। এ সময় কোনভাবেই যেন জমিতে পানির ঘাটতি না হয়। এ সময় ধানের শীষ ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই প্রিভেন্টিভ হিসেবে বিকেল বেলা ট্রুপার ৮ গ্রাম ১০ লিটার পানি অথবা নেটিভো ৬ গ্রাম ১০ লিটার পানি ৫ শতাংশ জমিতে ৫ দিন ব্যবধানে দু’বার স্প্রে করতে হবে। ধানে বিএলবি ও বিএলএস রোগ ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ৬০ গ্রাম থিওভিট, ৬০ গ্রাম পটাশ, ২০ গ্রাম জিংক ১০ লিটার পানিতে সমভাবে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।